• ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ আগষ্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৫৬ পিএম;
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। 

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংস‌দে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তা‌তে ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানু‌ষের স‌ঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি সৃ‌ষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ কর‌ছি।

তিনি আরও লিখেছেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। এই বক্তব্যের মাধ‌্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আস‌লে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চা‌পি‌য়ে দি‌য়ে‌ছেন। সেখানকার আলেম-ওলা‌দের ওপর দি‌য়ে‌ছেন। তা‌দের ভাবমূ‌র্তি বি‌শ্বের সাম‌নে ক্ষুণ্ন ক‌রে‌ছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ায় পু‌লি‌শের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর মিডিয়ায় যেভা‌বে এসে‌ছিল, বাস্তব চিত্র তা থে‌কে আলাদা ছিল। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কার‌ণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী‌দের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘ‌টে। তাই শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলে। এ নি‌য়ে পু‌লিশ ও শিক্ষর্থী‌দের কখা কাটাকা‌টি থে‌কে পরবর্তী ঘটনা ঘ‌টে। ক‌য়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন পু‌লি‌শের লাঠিপেটায়। মি‌ডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন কর‌লেও ঘটনাপ্রবাহ থে‌কে এটা স্পষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসা‌র্ট বন্ধ ক‌রে দেয়‌নি। তারা শুধু শব্দ কমা‌তে ব‌লে‌ছি‌লেন। এর মা‌নে ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ায় সাংস্কৃ‌তিক কার্যক্রম নি‌ষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব‌লে‌ছি‌লেন। যার মাধ‌্যমে তি‌নি ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানুষকে সম্প‌র্কে ভুল বার্তা দি‌য়ে‌ছি‌লেন, তা‌দের‌কে ছোট ক‌রে‌ছিলেন।

অন্যদিকে নৌকাবাইচের বিষয়টিতে স্থান নিয়ে আমার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছে। সি‌লেটর জায়গায় ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়া ব‌লে ফে‌লি। এ ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তা‌তে আমি বিব্রত। অনাকাঙ্ক্ষিত প‌রি‌স্থি‌তির জন‌্য দুঃখ প্রকাশ কর‌ছি। যদিও পাশাপাশি মূল ঘটনা কী ছিল, মিডিয়া কী ফ্রেমিং করেছে, সেটা নিয়ে সংসদে কথা বলা আমার উচিত ছিলো; কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ ছিলো না। সবশেষে একটি কথা আমি পুনর্ব্যক্ত করছি— আমি এবং আমার দল আমরা জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের উপর নির্ভর করেই নিতে চাই।

তিনি বলেন, জুলাই একটা সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে, এবং কেউ কারো মত বা দৃষ্টিভঙ্গি আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দেবে না। বিতর্ক থাকবে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে, কিন্তু কেউ কাউকে জোর করবে না, তার মতামতকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য মতামত হিসেবে গ্রহণ করতে। জুলাই এই কমন মিনিমাম গ্রাউন্ড -এর ঐক্যের প্রতীক। এই আদর্শের প্রতি আমি কমিটেড ছিলাম, আছি, থাকবো, এবং তার ভিত্তিতেই আমি বিশ্বাস করি যে, যদি কোনো গ্রুপ বা ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কারও ওপর জোর খাটান, কাউকে বাধ্য করেন নিজের মতামতকে চাপিয়ে দিতে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেটাকে প্রতিহত করা, সকল মানুষের সমান অধিকারকে নিশ্চিত করা। সরকার যখন সেই দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে, অস্বীকৃতি জানায়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে, সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমি এই কথাটাই সংসদে বলতে চেয়েছি। এই বাংলাদেশ সবার— এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সংগীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে। সকল ধর্মের, মতের মিলনস্থল আমার এই বাংলাদেশ। যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করতে না পারে। আজকে সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এবং তার ফলে সমতার যে বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাই ছিলো ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের আন্দোলন। জুলাই ছিল মানুষকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন, সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার আন্দোলন, যা বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করবে। আমাদের চেষ্টা সেই বাংলাদেশ গড়বার জন্য, সে চেষ্টাই আমরা করছি এবং করে যাবো। 

এর আগে জাতীয় সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ওই কর্মসূচি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

গত বৃহস্পতিবার সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটা কালচারাল একটা জেলা। সেই জেলায় নাকি গান-বাজনা সিনেমা বন্ধের মতই। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন- এই ছয় মাসে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কিনা এবং আইনের শাসন সেটি প্রতিষ্ঠিত করতে উনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কিনা, নাকি উনি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছেন?’

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন