শ্রমিকলীগ নেতার কুড়ালের আঘাতে, ছাত্রদল নেতার মায়ের মৃত্যু
কক্সবাজারের রামুতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ভয়াবহ সহিংসতায় ছাত্রদল নেতার মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় শ্রমিকলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম কালুর কুড়ালের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রেহেনা আক্তার (৪৫) নামের এক জননী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দরিয়ারদীঘি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০১৯ সাল থেকে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম কালুর সঙ্গে।
বিষয়টি নিয়ে প্রায় সময় বাকবিতন্ডায় জড়াতেন তারা। পরে রোববার সকালে বিরোধীয় সীমানায় বেড়া দেওয়া শুরু করলে জহিরুল। এ সময় রেহেনা আক্তার বাঁধা দিতে গেলে তাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাথায় জখম করে। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক রেহেনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শ্রমিকলীগের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন তাদের ওপর নির্যাতন করেছে কালু।
নিহতের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত ওরফে ছোটন ঢাকার ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে জুলাই–আগস্ট পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক সহিংসতার অংশ হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর থেকেই খুনিয়া পালং ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিরীহ নারীর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- শ্রমিকলীগ
- নেতা
- ছাত্রদল নেতা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: