• ঢাকা
  • বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

শাপলা চত্বরের মামলায় রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল মণ্ডল


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৩৯ পিএম;
শাপলা চত্বরের মামলায় রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল মণ্ডল

এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হতে চান পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল।

আজ বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জলিল মণ্ডলের জামিন শুনানিতে এ কথা বলেন তার আইনজীবী মো. আলী হায়দার।

আইনজীবী আলী হায়দার জানান, জলিল মণ্ডল হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। তাঁর হার্টে সাতটি ব্লক আছে।

এ সময় আসামি জলিল মণ্ডল বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট জমা নেন। আমি অ্যাপ্রুভার হতেও রাজি। আমি বিচারকাজে সহযোগিতা করতে চাই। ২০২৪ সালে এই মামলা হয়েছে।

আমি পালিয়ে যাই নাই। আমাকে আমার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘একজন বিচারপতি হার্টে ১৭ থেকে ১৮টি ব্লক নিয়ে অফিস করেন। এই জামিন আবেদনের গ্রাউন্ড নেই।

জামিন আবেদনটি খারিজ করা হলো। তবে ট্রাইব্যুনাল জলিল মণ্ডলের রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আইনজীবী আলী হায়দার বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে তাঁর মক্কেল রাজসাক্ষী হতে চান।’

গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন।

পরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

জানা যায়, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার জেলায়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনকে হত্যার তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এই ৫৮ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মী হত্যার কথা উল্লেখ ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও আছেন অভিযুক্তের তালিকায়।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন আরো পাঁচ আসামি। তাঁরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৫ এপ্রিল আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামরায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য আছে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন