বাড়ি ফেরার ঢল, বাড়তি ভাড়া
ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়েছে। সাত দিনের ছুটিতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং ব্যক্তিগত বাহনে বাড়ির পথে রওয়ানা দিয়েছেন চাকরিজীবীরা। টার্মিনালগুলোতেও রয়েছে ঘরমুখী মানুষের জটলা। মহাসড়কে গাড়ির চাপে হিমশিম। তবে ততটা যানজট নেই মহাসড়কে। নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। একই অবস্থা রেলপথেও। ট্রেন স্টেশনে মানুষের জটলা থাকলেও সূচি অনুযায়ী যাচ্ছে ট্রেন। নৌপথেও রয়েছে স্বস্তি। নির্বিঘ্নে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।
টার্মিনালগুলোতে মানুষের ভিড় : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখী মানুষ। গতকাল সকাল থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ এবং মহাখালী বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। যানজট আর ভোগান্তির আশঙ্কা থাকলেও বাড়ি ফেরার আনন্দে সব কষ্টই যেন ম্লান যাত্রীদের কাছে।
টার্মিনালগুলোতে দেখা যায়, সকাল থেকেই মানুষের স্রোত। গাবতলী টার্মিনালে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও ছিল প্রচুর যাত্রীর উপস্থিতি। যাত্রীদের চাপে যেন পা ফেলার জায়গা নেই। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলগামী মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা। হাতে ব্যাগ, বগলে পোটলা আর চোখে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যের ব্যাকুলতা নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। তবে সময়মতো বাস না ছাড়া ও বাড়তি ভাড়া নেওয়ারও রয়েছে অভিযোগ। বাস টার্মিনাল এলাকাগুলোতে মানুষের ভিড়ের কারণে আশপাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।
টিকিট নিয়ে বরাবরের মতো এবারও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মহাখালী বাস টার্মিনালে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলগামী যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও বাড়তি দামে চোরাইপথে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেও বাসের দেখা নেই। আবার টিকিটের দামও স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছে।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা আর যানজটের ভয় থাকলেও যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের আভা। গাবতলী বাস টার্মিনালে বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন, সারা বছর এই দিনটার অপেক্ষায় থাকি। কষ্ট হলেও মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই আলাদা।
তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে রয়েছে গাড়ির চাপ। যানবাহনের ধীরগতি কারণে যাত্রাপথ দীর্ঘ হচ্ছে। যদিও এখনো তীব্র যানজট তৈরি হয়নি। এ মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১০৪ কিলোমিটার যানজটমুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি ৮০ জন রোভার স্কাউট সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা কুমিল্লার আটটি পয়েন্টে সড়কের বিশৃঙ্খলা নিরসন এবং ঘরমুখী যাত্রীদের সহায়তা করবেন।
ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের ভিড় : গতকাল সকাল থেকেই স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে স্টেশন ছাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, যাত্রীচাপ কয়েক গুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়নি। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় এবং সব কার্যক্রম সুশৃঙ্খল থাকায় স্টেশনে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও উৎফুল্ল ভাব লক্ষ করা গেছে।
গতকাল ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে দিনের ট্রেনযাত্রা শুরু হয়। এরপর যথাসময়ে ঢাকা ছাড়ে নীলসাগর, সুন্দরবন, এগারো সিন্দুর প্রভাতী এবং তিস্তা এক্সপ্রেস। কমলাপুর স্টেশনে পরিবার নিয়ে অপেক্ষায় থাকা তাজুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, ভিড় হবে জেনে তিনি সকালে স্টেশনে এসেছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কারণে বিনা টিকিটে কেউ প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারছে না দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অন্যদিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী আহসান হাবিব শিমুল জানান, পরিবারকে আগেই পাঠিয়ে দিলেও নিজে আজ (গতকাল) রওনা দিচ্ছেন এবং ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে আসায় তিনি খুব খুশি।
একই অবস্থা লঞ্চ টার্মিনালে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে, কেউ পরিবারের হাত ধরে, কেউ ব্যাগভর্তি স্বপ্ন নিয়ে ছুটছেন বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের পথে। মুখে ক্লান্তি থাকলেও চোখেমুখে এক ধরনের আনন্দ, বাড়ি ফেরার আনন্দ। ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই রওয়ানা হয়েছেন। যাত্রী বাড়ায় বরিশাল রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ডেক ও কেবিন ভাড়া প্রায় আগের মতো থাকলেও কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- বাড়ি ফেরার ঢল
- বাড়তি ভাড়া
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: