ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেবে ভারত?
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর অবশেষে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রবিবার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
এদিকে, আলোচিত এ হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে কিনা।
স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের সরবরাহকৃত তথ্যের আলোকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে শ্যুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে।
আটকের পর তাদের ফেরত পাঠাতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এমতাবস্থায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আলোচিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এই দুই আসামিকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে পারে ভারত সরকার। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আটক হওয়া দুই আসামিকে রবিবার (৮ মার্চ) বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়।
পরে আদালত তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে তারা ফের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
এসটিএফ সূত্রে খবর, গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন দুজনেই হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সবশেষে তাদের অবস্থান ছিল বনগাঁয়।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- ওসমান* হাদির,হত্যাকারীদের
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: