• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

এমন দেশ গড়তে চাই যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৫১ এএম;
এমন দেশ গড়তে চাই যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

এমন দেশ গড়তে চাই যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে

বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গতকাল শনিবার দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, ‘নারীদের রাষ্ট্র সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে-বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন।’

তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’, যা পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম প্রদান, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা। সরকার নারীর নিরাপত্তা বিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।’

জাকাত দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের আহবান প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধনী-দরিদ্র সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি চার কোটি। এসব পরিবারের মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে জাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস, বেশির ভাগ পরিবারকে পরের বছর আর জাকাত না-ও দিতে হতে পারে।’

গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের সম্মানিত আলেম ওলামা মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে পবিত্র মাহে রমজানের ১৭তম দিন আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হলে এ ব্যাপারে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা আলেম ওলামা মাশায়েখগণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন। জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান জাকাত বোর্ড পুনর্গঠন সম্ভব। জাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলেও আমি মনে করি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, পিতৃহারা এতিম সন্তানরা একবুক বেদনা বুকে নিয়েও রাষ্ট্র ও সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে। পবিত্র রমজান ত্যাগ ও সংযমের মাস। রহমত-বরকত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য, রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন।’

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী এতিম সন্তানরাই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমের হক আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমের প্রতি হক আদায়ের গুরুত্ব এবং এতিমদের নিয়ে আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন। আজকের এই ইফতার মাহফিলে সংগত কারণেই সকল এতিম সন্তানদের আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তবে ‘এতিমদের ব্যাপারে রাষ্ট্র ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ইফতার মাহফিলের অবশ্যই প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে।

 

ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময় পার : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ছুটির দিন টানা তিন শনিবার অফিস করলেন তারেক রহমান। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অফিস করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) ও উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিনও তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অফিস করেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, দুপুর ১২টায় কার্যালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার।

দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন