নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার ওপর ভরসা রাখবে বিএনপি?
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে এখন পর্যন্ত দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
দলের নীরবতার কারণে রাজনৈতিক মহলে এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে যে, শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের বাইরে নতুন কোনো মুখকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দায়িত্ব পালন করা একজন শীর্ষ আমলার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি বিধান অনুযায়ী, তার প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সংবিধানের ৪৮(৪)(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। অন্যদিকে, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, অবসরের পর চুক্তিভিত্তিকভাবে প্রজাতন্ত্রের চাকরি বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তি সেই নিয়োগ শেষ বা বাতিল হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। একই বিধান চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ফলে আলোচনায় থাকা ওই কর্মকর্তা যদি এখনো চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকেন, অথবা সেই নিয়োগ শেষ হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হয়ে থাকে, তাহলে বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না।
এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
এখন পর্যন্ত বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করায় বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অনিশ্চিত। তবে দলটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: