• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ভালোবাসার প্রকৃত ঠিকানা কোথায়— হারাম সম্পর্ক, নাকি হালাল বিবাহ?


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৩৬ পিএম;
ভালোবাসার প্রকৃত ঠিকানা কোথায়— হারাম সম্পর্ক, নাকি হালাল বিবাহ?

ভালোবাসা মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি, যা আল্লাহ তাআলার এক অনন্য নেয়ামত। কিন্তু এই ভালোবাসা তখনই কল্যাণকর ও বরকতময় হয়, যখন তা আল্লাহর নির্দেশিত সীমারেখার মধ্যে পরিচালিত হয়। বর্তমান যুগে অবাধ সম্পর্ক, গোপন প্রেম এবং অনৈতিক মেলামেশাকে অনেক সময় ভালোবাসার নাম দেওয়া হয়। অথচ ইসলাম ভালোবাসাকে অস্বীকার করেনি; বরং তাকে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পবিত্রতার আবরণে সুরক্ষিত করার জন্য বিবাহের বিধান দিয়েছে।

ভালোবাসার হালাল ও পবিত্র পথ

আল্লাহ তাআলা বলেন—

مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِي أَخْدَانٍ

‘তোমরা তাদেরকে বিবাহ করবে সতীত্ব রক্ষার জন্য; ব্যভিচার করার জন্য নয় এবং গোপনে অবৈধ সঙ্গী গ্রহণ করার জন্যও নয়।’ (সুরা আল-মায়েদাহ: আয়াত ৫)

এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, নারী-পুরুষের সম্পর্কের বৈধ ও সম্মানজনক মাধ্যম হলো বিবাহ। ইসলাম এমন কোনো সম্পর্ককে সমর্থন করে না যা গোপন, দায়িত্বহীন কিংবা আল্লাহর বিধানের বাইরে।

কেন বিবাহ ভালোবাসার পবিত্র ঠিকানা?

১. বিবাহে থাকে সম্মান

বিবাহ নারী ও পুরুষ উভয়ের মর্যাদা রক্ষা করে। এখানে কেউ কারো ভোগের বস্তু নয়; বরং একে অপরের জীবনসঙ্গী, সহযোগী এবং আমানত। আল্লাহ তাআলা বলেন—

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

‘তারা তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৭)

পোশাক যেমন মানুষকে আবৃত করে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং সুরক্ষা দেয়, তেমনি স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সম্মান ও নিরাপত্তার রক্ষক।

২. বিবাহে থাকে নিরাপত্তা ও প্রশান্তি

সত্যিকারের প্রশান্তি ক্ষণস্থায়ী আবেগে নয়, বরং দায়িত্বশীল ও বৈধ সম্পর্কে পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً

‘আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ করো; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রূম: আয়াত ২১)

৩. বিবাহ চরিত্রকে পবিত্র রাখে

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

বিবাহ মানুষের নৈতিকতা ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। হাদিসে পাকে এসেছে—

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ

‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ এটি দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (বুখারি ৫০৬৬, মুসলিম ১৪০০)

৪. বিবাহ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হারাম সম্পর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখে, আল্লাহ তার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْهُ

‘তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করলে, আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন।’ (মুসনাদ আহমাদ ২৩০৭৪)

অতএব, সাময়িক আবেগের কারণে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করা অনেক বেশি কল্যাণকর।

বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের করণীয়

আজকের সমাজে সম্পর্কের নামে অনেক অনিশ্চয়তা, প্রতারণা ও মানসিক কষ্ট দেখা যায়। অথচ ইসলাম এমন একটি ব্যবস্থা দিয়েছে যেখানে ভালোবাসা দায়িত্বের সাথে যুক্ত, আবেগের সাথে থাকে জবাবদিহিতা এবং সম্পর্কের সাথে থাকে আল্লাহর বরকত। তাই তরুণ-তরুণীদের উচিত নিজেদের অনুভূতিকে পবিত্র পথে পরিচালিত করা এবং বৈধ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গঠনের জন্য বিবাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়; বরং এটি আল্লাহর দেওয়া এক মহামূল্যবান অনুভূতি। তবে সেই ভালোবাসার প্রকৃত সৌন্দর্য, স্থায়িত্ব এবং বরকত নিহিত রয়েছে বিবাহের মধ্যে। গোপন সম্পর্ক হয়তো সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু বিবাহ দেয় সম্মান, নিরাপত্তা, দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই আসুন, আমরা ভালোবাসাকে পবিত্র রাখি, সম্পর্ককে হালাল পথে পরিচালিত করি এবং জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বন্ধন—বিবাহকে ভালোবাসার প্রকৃত ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন