• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

উত্তরের রুটে দীর্ঘ যানজট: রাতের বাসও পৌঁছায়নি গাবতলী, ভোগান্তিতে যাত্রীরা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:০১ পিএম;
উত্তরের রুটে দীর্ঘ যানজট: রাতের বাসও পৌঁছায়নি গাবতলী, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলো দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে ছাড়া অধিকাংশ বাসই বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গাবতলী পৌঁছাতে পারেনি। ফলে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে জয়পুরহাট, বগুড়া ও দিনাজপুরসহ উত্তরের বিভিন্ন রুটে প্রায় ৩০টি বাস ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব বাসের অধিকাংশই এখনো যমুনা সেতুর আগের বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

আহাদ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার ইয়াসিন বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, তীব্র যানজটের কারণে রাতের বেশিরভাগ বাস এখনো ফিরে আসেনি। অনেক গাড়ি চান্দুরা, বাইপাইল ও করটিয়া এলাকায় আটকে আছে। ফলে নতুন করে টিকিট বিক্রিও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এসি ও নন-এসি মিলিয়ে ৩০টি গাড়ি ছাড়া হয়েছে। কিন্তু জিপিএস ট্র্যাকিংয়ে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগই এখনো যমুনা সেতু পার হতে পারেনি।”

শুধু আহাদ পরিবহন নয়, একই পরিস্থিতিতে পড়েছে অন্যান্য দূরপাল্লার পরিবহনগুলোও। গাবতলী বাস টার্মিনালের অন্তত ২০টি কাউন্টারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসই এখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।

কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, গতরাত থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোর বড় অংশই চান্দুরা, বাইপাইল ও করটিয়া এলাকায় দীর্ঘ যানজটে আটকে রয়েছে। সড়ক সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ২৯টি বাস উত্তরের পথে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাত্র ৭টি ফিরে এসেছে। বাকি বাসগুলো এখনো মাঝপথে রয়েছে।

কাউন্টারম্যান জাহিদ বলেন, “যাত্রীরা বারবার এসে জানতে চাইছেন কখন বাস আসবে। কিন্তু রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আমরা কিছুই বলতে পারছি না।”

একই অবস্থা হানিফ পরিবহন, আসাদ পরিবহন ও এসআই ট্রাভেলসসহ অন্যান্য পরিবহনেও। হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আমানুল্লাহ জানান, সকালে ১০টি বাস ছেড়ে দেওয়া হলেও আগের বাসগুলো এখনো ফেরেনি।

এসআই ট্রাভেলসের কাউন্টার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতরাতে পাঁচটি বাস ছেড়েছি, একটিও এখনো গন্তব্যে পৌঁছায়নি। পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ যে নিজের আত্মীয়কেও অন্য পরিবহনে পাঠাতে হয়েছে।”

এদিকে, নির্ধারিত সময়েও বাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। গাবতলীতে জয়পুরহাটগামী যাত্রী কাইয়ুম আহমেদ বলেন, “আমাদের বাস ছিল দুপুর ১২টায়। এখনো জানি না কখন ছাড়বে। শুধু বলা হচ্ছে বাস আসলে যাবে।”

বাসগুলো সময়মতো ফিরে না আসায় কাউন্টারগুলোতেও চাপ বাড়ছে। অনেক কর্মী যাত্রীদের প্রশ্নের মুখে পড়ার ভয়ে কাউন্টার ছেড়ে অন্যত্র সময় কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দ্রুত যানজট নিরসন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না আনলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন