• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

“নয় বছরের অপেক্ষার অবসান:গোমা সেতুতে যুক্ত হলো দুই জেলা,বদলে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন”


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৩৮ পিএম;
“নয় বছরের অপেক্ষার অবসান:গোমা সেতুতে যুক্ত হলো দুই জেলা,বদলে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন”

 নজরুল ইসলাম আলীম:

 

সকালবেলার কুয়াশা ভেদ করে নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দীর্ঘশ্বাস—কখন ফেরি ভিড়বে, কখন পার হওয়া যাবে—এই অনিশ্চয়তার গল্প এখন ইতিহাস হতে চলেছে। বরিশালের রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত বহু প্রতীক্ষিত গোমা সেতু অবশেষে উদ্বোধন হলো, যা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান।গোমা সেতু চালু হওয়ার ফলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা এবং পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলো। এর ফলে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে এবং সময় সাশ্রয় হবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি সড়কে চলাচলকারী মানুষের জন্য নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল ফেরি কিংবা ইঞ্জিনচালিত নৌকা। স্থানীয়দের কাছে এটি ছিল এক অনিশ্চিত যাত্রা—কখনও আধঘণ্টা, কখনও এক ঘণ্টা, আবার কখনও তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতো। নদীর স্রোত কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটিতে সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতো।গোমা সেতু চালু হওয়ায় সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো। এখন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষ নিরবচ্ছিন্নভাবে সড়কপথে যাতায়াত করতে পারবেন।

নয় বছরের দীর্ঘ নির্মাণযাত্রা সেতুটি নির্মাণের পথচলাও ছিল দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। ২০১৭ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পাওয়া এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।শুরুতেই সেতুর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ, যাতে নদীপথে নৌ চলাচল বিঘ্নিত না হয়। প্রথম নকশায় যেখানে সর্বোচ্চ উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার, তা পরে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটারে উন্নীত করা হয়। এর ফলে পুরো নকশা পুনর্বিবেচনা করতে হয় এবং নতুন করে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়।

ব্যয় ও সময়—দুইই বেড়েছে নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ এবং নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকায়, যা প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের এই দুই লেনের সেতুতে পিসি গার্ডারের পাশাপাশি স্টিল ট্রাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরনের প্রথম উদাহরণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বলেন, “এই সেতু চালু হওয়ায় বাকেরগঞ্জ ও দুমকি উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। কৃষিপণ্য, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।”

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন