• ঢাকা
  • শনিবার, ২২ আগষ্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বরগুনায় আদালতের রায়ের অপব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকি প্রদান


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৩৭ পিএম;
বরগুনায় আদালতের রায়ের অপব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকি প্রদান

বরগুনায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের একটি রায়কে পুঁজি করে রায়ের বাইরের জমি দখলের চেষ্টা, ভাড়াটে লোক দিয়ে মহড়া এবং এলাকাবাসীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুল বারেক ওরফে "বারেক রেঞ্জার"। তিনি বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী তৌফিকুজ্জামান তুহিন মোল্লা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বারেক রেঞ্জার বরগুনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি রায় পান। কিন্তু ওই রায়ে তিনি যে দাগগুলোর কথা উল্লেখ করেননি এবং মামলায় যাদের বিবাদী করেননি, সেই জমিগুলোতেই তিনি এখন দখলের চেষ্টা করছেন।

এজন্য তিনি ৪০-৫০ জন ভাড়াটে লোক, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা সদরের ২ নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের বড় গৌরীচন্না মৌজায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপুল সংখ্যক ভাড়াটে লোক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তিনি এ তাণ্ডব চালান। এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব মো. মিজানুর রহমান বলেন, "আমাদের জমি এখানে সবচেয়ে পুরনো। বারেক সাহেব আমাকে কোনো মামলায় বিবাদীও করেননি। হঠাৎ শুনলাম তিনি আমার জমি দখলে নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।"

আরেক বাসিন্দা রং মিস্ত্রি আবু হানিফা বলেন, "আমি গুরুতর অসুস্থ ও শয্যাশায়ী। দুই-তিন দিন আগে বারেক রেঞ্জার বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে গেছেন, জমিতে নামলে আমার সমস্যা হবে।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, "তিনি যদি আদালতের রায় পেয়েই থাকেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে জমি বুঝে নিক। আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন কেন? এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাহাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এ বিষয় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা আবদুল বারেক রেঞ্জারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি এবং তার দুটি মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করে নিরীহ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং আদালতের রায়ের অপব্যবহার বন্ধ করা হোক।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন