তুরস্কের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার ও সবচেয়ে সুন্দরী নারী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান
তুরস্কের কাছে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দেশটির সবচেয়ে সুন্দরী একজন নারীকে বিয়ের জন্য চাওয়ার মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুউহুজি কাইনেরুগাবা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি তুরস্কের কাছে এই দাবি জানান। পোস্টগুলো প্রকাশের পর দ্রুতই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং কূটনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
জেনারেল কাইনেরুগাবা উগান্ডার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনির ছেলে এবং বর্তমানে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান।
তার পোস্টে বলা হয়, উগান্ডা ও তুরস্কের অতীত সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের উচিত উগান্ডাকে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া।
তিনি ইঙ্গিত দেন, এই দাবি পূরণ না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কাম্পালায় তুরস্কের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেন।
এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে— একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে এমন ভাষায় পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট বার্তা দিতে পারেন।
অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, তুরস্কের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে তিনি স্ত্রী হিসেবে চান।
এই মন্তব্য ঘিরে অনলাইনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একে অনুপযুক্ত, অপেশাদার এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন।
সমালোচকদের মতে, এমন মন্তব্য শুধু উগান্ডা-তুরস্ক সম্পর্ককেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেনি, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উগান্ডার ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ব্যর্থ আলোচনার পর ইরানকে ‘খতম’ করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
জেনারেল মুউহুজি কাইনেরুগাবা এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করে বহুবার আলোচনায় এসেছেন।
এর আগে তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সামরিক বিষয় এবং আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে তার একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট অতীতেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে জেনারেল মুউহুজির পোস্টগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কূটনীতি, ক্ষমতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: