ইলিশ রপ্তানি নয়, সৌজন্য উপহার—পহেলা বৈশাখে ভারতে পাঠানো নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
নজরুল ইসলাম আলীম:
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভারতে ইলিশ পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমনটাই জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ রপ্তানি করে না; বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতে সীমিত পরিসরে সৌজন্য উপহার হিসেবে ইলিশ পাঠানো হয়ে থাকে। তবে এ বছর পহেলা বৈশাখকে ঘিরে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।মন্ত্রী বলেন, সরকার ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, ফলে দামও কমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। তিনি জানান, ইলিশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলো রক্ষা, জাটকা নিধন বন্ধ এবং জেলেদের বিকল্প সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এ লক্ষ্যে ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’, যা চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশের ২০টি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে চাঁদপুরে। এ সময় জাটকা আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং সাগর থেকে বাজার পর্যন্ত নজরদারি জোরদার করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে আর্থিক সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি।সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকেন এবং ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- ইলিশ* রপ্তানি.নয়
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: