• ঢাকা
  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বনানীতে ফ্ল্যাটের চেয়ে কবরের দাম বেশি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:২২ পিএম;
বনানীতে ফ্ল্যাটের চেয়ে কবরের দাম বেশি

রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাটের চেয়ে কবরের জায়গার দামও অনেক ক্ষেত্রে কম নয়। প্রায় দুই হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনতে যেখানে খরচ হচ্ছে ৪ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা, সেখানে মাত্র ২০ বর্গফুটের মতো জায়গায় একটি কবর ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। জায়গার সংকটেই এমন অস্বাভাবিক মূল্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পরিচালিত বনানী কবরস্থানে বর্তমানে ৯ হাজারের বেশি কবর রয়েছে। নতুন জায়গা না থাকায় পুরোনো কবর পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো স্থায়ী কবর পুনর্ব্যবহার করে নতুন দাফন করতে নির্ধারিত ফি ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। ১৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণে ব্যয় প্রায় ৩ কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

কবরস্থান সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন কবরের জায়গার খোঁজে আসেন। অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ দিতে রাজি থাকলেও জায়গার অভাবে তা সম্ভব হয় না। বনানী কবরস্থানে দুই বছর পর পুরোনো কবরের ওপর নতুন করে দাফন করা হয়। কোনো কোনো স্থায়ী কবরে সাতজন পর্যন্ত দাফন করা হয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে নিজের জন্য কবরের জায়গা খুঁজছেন। তিনি জানান, ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা দিতেও রাজি ছিলেন। কিন্তু সাড়ে তিন হাত জায়গার একটি টুকরোও পাওয়া যাচ্ছে না।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বনানীর চিত্র রাজধানীর সামগ্রিক কবরস্থান সংকটের প্রতিফলন। দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে জনসংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে কবরস্থানের জমি বাড়েনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, কবরস্থানও গুরুত্বপূর্ণ নগরসেবার অংশ। ঢাকায় এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানেও জায়গার সংকট প্রকট। প্রায় ৩২ একর জমির এ কবরস্থানে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কবর। প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জনকে দাফন করা হয়। সাধারণত একটি মরদেহ প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত কবরে রাখার পর প্রয়োজন অনুযায়ী কবরটি পুনর্ব্যবহার করা হয়।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ৫০ হাজার মানুষের জন্য একটি এক একরের কবরস্থান প্রয়োজন। ঢাকার জনসংখ্যা সাড়ে তিন কোটি হলে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০০ একর কবরস্থান। জনসংখ্যা ২ কোটি ধরলেও প্রয়োজন হবে প্রায় ৪০০ একর জমি। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট ছোট কবরস্থান নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন