• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

সিএনজি ভাড়া নৈরাজ্য, বেড়েছে ভোগান্তি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৫০ পিএম;
সিএনজি ভাড়া নৈরাজ্য, বেড়েছে ভোগান্তি

প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস বিজয়নগর উপজেলাতে। স্বাধীনতার বহুবছর পর জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের মেগা প্রকল্প হিসেবে তৎকালীন সরকার বিজয়নগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে যাতায়াতে চান্দুরা আখাউড়া সড়কের বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষীপুর অংশ থেকে জেলা শহরের কালীবাড়ি মোড় পর্যন্ত (সিমনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সড়ক নির্মাণ হয়। 

জেলা শহরের পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারীদের সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র ভরসা উক্ত সড়ক। সড়কটিতে সিএনজি ভাড়া নিয়ে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা না থাকায় চালকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে চরম উৎকন্ঠা ও ক্ষোভ বাড়ছে এবং প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন উক্ত সড়কে যাতায়াতকারীরা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী  যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। নির্ধারিত ভাড়া মেনে সড়কগুলোতে সিএনজি চলাচল করলেও, বিজয়নগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে চলাচলকারী সিএনজির নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা যায়নি।  

স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, সাবেক বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উপস্থিত রেখে তার কার্যালয়ে বসে চম্পকনগর ও টুকচাঁনপুর সিএনজি কমিটি ও উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ভাড়া কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্ধারণ করা ভাড়া, অমান্য করায় দ্বিতীয় বার সদর বিজয়নগর আসনের সংসদ সদস্য ইন্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ'র সমন্বয়ে জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিজয়নগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের সিএনজি ভাড়া ২০ টাকা কমানো হয়। পরদিন বিজয়নগর থানার ওসি এ কে ফজলুল হক টুকচাঁনপুর সিএনজি অফিসে বসেন। এসময় সিঙ্গারবিল, আউলিয়া বাজার, নোয়াগাঁও, চম্পকনগর ও টুকচাঁনপুর সিএনজি স্টেশন'র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

উপস্থিত সিএনজি কমিটির লোকজনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ঈদের পর থেকে বিশ টাকা কমিয়ে ভাড়া ধার্য করা হয়। ঈদের পর ২০ টাকা না কমিয়ে ১০ টাকা কমে টুকচাঁনপুর ও চম্পকনগর বাজার থেকে সিএনজি চলাচল করলেও আউলিয়া বাজার, সিঙ্গারবিল ও নোয়াগাঁও কমিটি ভাড়া না কমিয়ে পূর্বের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করে। এই সুযোগে সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিজয়নগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালকরা পূর্বের ভাড়া আদায় করা শুরু করেছে। এতে যাত্রীরা যেমন বিভ্রান্তিতে পড়েছে। ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে চালক ও যাত্রীরা প্রায়ই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছে। 

একাধিক সূত্রের অভিযোগ, বিজয়নগর ও শিমরাইকান্দি এলাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যারা মনগড়া ভাড়া নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে কোন প্রকার উদ্যোগ নিলেই উক্ত সড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। যাত্রী পরিবহনে তখন শিমরাইলকান্দি এলাকার সিএনজি চালকরা যাত্রী প্রতি ১ শ দেড়শ টাকা ধার্য করে অটো রিক্সায় যাত্রী পরিবহন করে। উক্ত সিন্ডিকেটে থাকা চালকরা কয়েকদিন পরিবহন বন্ধ রেখে যাত্রীদের চাপে ফেলে নিজেদের নির্ধারিত ভাড়া বহাল রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সিএনজি চালকরা জানায়, মোড়ে মোড়ে চালকদের শেল্টার দেয়ার নামে সিন্ডিকেট করে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। গ্যাস ও যন্ত্রাংশের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি। মালিকদের অতিরিক্ত চাহিদা। দিনভর পরিশ্রম করে কম ভাড়া আদায় করলে দিন শেষে তাদের পোষায় না। 

বিজয়নগর থানার ওসি একে ফজলুল হক দৈনিক পুনরুত্থান প্রতিবেদককে বলেন, আমি সিএনজি কমিটির লোকজনের সাথে কথা বলার পর, ঈদের পর ভাড়া কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কে অবগত করা প্রয়োজন। তাদের ইচ্ছে মতো ভাড়া নির্ধারণ করা সঠিক নয়। উপজেলায় ইউএনও মহোদয় যোগদান করেছে। উনার সাথে কথা বলে যাত্রী ভোগান্তি দূরীকরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

এ অবস্থায় দ্রুত একটি নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা প্রণয়ন ও কঠোরভাবে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন