• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. আর্ন্তজাতিক

বঙ্গ রাজনীতিতে মহাপ্রলয়: দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান,বাংলায় ঐতিহাসিক ‘গেরুয়া সূর্যোদয়'


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:১৩ এএম;
বঙ্গ রাজনীতিতে মহাপ্রলয়: দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান,বাংলায় ঐতিহাসিক ‘গেরুয়া সূর্যোদয়'

নজরুল ইসলাম আলীম:

 

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচনে মোদি-শাহের সুপরিকল্পিত রণকৌশল এবং শুভেন্দু অধিকারীর লড়াকু মেজাজের কাছে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় ভাবমূর্তি। সোমবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দুই শতাধিক আসনে এগিয়ে থেকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে গেরুয়া শিবির।এই জয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৪৯ বছর পর ফিরছে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। ১৯৭৭ সালে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের কংগ্রেস সরকারের পতনের পর থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন আর দেখেনি বাংলার মানুষ। বামফ্রন্টের ৩৪ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের পর এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের এক নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।নির্বাচন কমিশনের রাত পৌনে ১০টার তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৬৭টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও ৪১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, একসময়ের অপ্রতিরোধ্য তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গেছে মাত্র ৫৯টি আসনে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্রই বইছে গেরুয়া হাওয়া। বিশেষ করে হুগলির সিঙ্গুর, যেখান থেকে তৃণমূলের উত্থান হয়েছিল, সেই দুর্গেই এবার বড়সড় ধস নেমেছে। মালদহ থেকে আসানসোল—সবখানেই বিজেপি কর্মীদের বিজয় উল্লাস এবং আবির খেলায় মেতে উঠতে দেখা গেছে।মোদি-মমতার বাকযুদ্ধ: জয় বনাম জালিয়াতি ফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এই জয়কে ‘জনগণের শক্তির জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬-এর নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করছি, আমরা এমন এক সরকার দেব যা সমাজের সব স্তরের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে।”অন্যদিকে, পরাজয় মেনে নিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘ভোট চুরি’ ও ‘জালিয়াতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপি কমিশনে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০০টি আসন তারা চুরি করেছে। আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়, ভবানীপুরে রুদ্ধশ্বাস নাটক বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রামে ফের জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ভবানীপুর আসনটি নিয়ে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই কেন্দ্রে দিনভর নাটকীয়তা চলে। বিকেলে গণনা কেন্দ্রে মমতা ও শুভেন্দু উভয়েই হাজির হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কমিশন নিষেধাজ্ঞা জারি করলে দুজনেরই ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতার চেয়ে ২৯৫৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন, যা তৃণমূল সুপ্রিমোর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধাক্কা।বাংলার পাশাপাশি এদিন ভারতের অন্য কয়েকটি রাজ্যেও ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি। কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (১০২ আসন) বড় জয়ের পথে। তবে দক্ষিণ ভারতে বড় চমক দেখিয়েছেন মেগাস্টার থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টরি কাঝাগাম’ (টিভিকে)। তামিলনাড়ুতে আত্মপ্রকাশের মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা ১০৮টি আসনে এগিয়ে থেকে ডিএমকে-র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি, আরজি কর হাসপাতালের নজিরবিহীন ঘটনা এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষই তৃণমূলের এই ভরাডুবির কারণ। অন্যদিকে, বিজেপির ‘সুশাসনের রাজনীতি’ এবং রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোটদান প্রমাণ করেছে যে বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের চেয়েও বড় কোনো বিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
বিজেপির এই জয়ের মাধ্যমে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিশ্রুত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে গেরুয়া শিবির কতটুকু সফল হয়।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন