• ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ আগষ্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. রাজধানী

গুলশান-বনানীর স্পার আড়ালে অনৈতিক কারবারের অভিযোগ, অভিযানে গ্রেফতার শতাধিক


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৫৯ পিএম;
গুলশান-বনানীর স্পার আড়ালে অনৈতিক কারবারের অভিযোগ, অভিযানে গ্রেফতার শতাধিক

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক :


রাজধানীর অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান ও বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক কারবার এবং অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, এলাকায় অর্ধশতাধিক ছোট-বড় স্পা সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার অনেকগুলোর বিরুদ্ধে স্পা সেবার আড়ালে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে শতাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলশান-১, গুলশান-২ ও বনানীর বিভিন্ন সড়ক, বাণিজ্যিক ভবন এবং আবাসিক এলাকায় অসংখ্য স্পা সেন্টার গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড নেই এবং বাইরে থেকে সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো মনে হলেও ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
বনানীর একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় পরিচালিত একটি স্পা সেন্টার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, শাওন নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
একইভাবে গুলশান-২ গোলচত্বর সংলগ্ন একটি ভবনে পরিচালিত স্পা সেন্টার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রত্না নামের এক নারী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পা পরিচালনার বিষয়টি স্বীকার করলেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
বনানী কবরস্থান সংলগ্ন এলাকাতেও স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শহীদ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কিছু স্পা সেন্টারে গ্রাহক সংগ্রহের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক আনার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ঘণ্টাভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সেবা দেওয়া হয় এবং এর জন্য কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
এদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টারে ধারাবাহিক অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশ। গুলশান-২ এলাকার একটি স্পা সেন্টারে অভিযানে ১৯ নারী ও ৩ পুরুষসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া গুলশানের দুটি স্পা সেন্টারে পৃথক অভিযানে ২৯ নারী ও ২৪ পুরুষসহ আরও ৫৩ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেছেন, অভিজাত আবাসিক এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সাময়িক অভিযানের পরিবর্তে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে গুলশান-বনানী এলাকার বিতর্কিত স্পা ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান /জাহিদ মিয়া

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন