আওয়ামী লীগের ৫২% ভোটারের এখন পছন্দ বিএনপি
অতীতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকের বেশী (৫২ শতাংশ) পছন্দ এখন বিএনপি। তবে তরুণ ও নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস : এ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)। দৈব নমুনায়নের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে দেশের ১৮০টি আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী।
প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জাকারিয়া পলাশ বলেন, ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্বসংক্রান্ত ধারণা এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিষয়ে জনমত অনুসন্ধান করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ৮ শতাংশ ভোটার এখনো ভোটে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৩৩.২ শতাংশ ভোটার দল ও প্রার্থী উভয়কেই বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। ৩০.২ শতাংশ ভোটার শুধু প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দিতে চান। আরো বলা হয়, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার এখন আত্মপরিচয় বা ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ৬৭.৩ শতাংশ ভোটারের কাছে আগামী নির্বাচনের প্রধান ইস্যু ‘দুর্নীতি’। বিপরীতে ধর্মের কথা উল্লেখ করেছেন ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার। এ ছাড়া ৬৩ শতাংশ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ৫৫.৪ শতাংশ উন্নয়ন এবং ৫১ শতাংশ নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ২০ শতাংশ মানুষ এখনো শঙ্কায় আছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতা, সংঘাত নিয়ে। অনেকে মনে করছেন, ধর্মীয় বিষয় এ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কিন্তু জরিপে দেখা গেছে প্রায় তিনজনে একজন ধর্মীয় বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছেন। এর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দুনীতি ও দব্যমূল্যের বিষয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে তাদের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। ২৯ শতাংশ জামায়াত, ৬.৫ শতাংশ এনসিপি এবং ১৩ শতাংশ অন্যান্য দলকে পছন্দ করছেন। এ ছাড়া ২.৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ, অর্থাৎ ৩৭.৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াতে ইসলামী। এরপর বিএনপি ২৭ শতাংশ, এনসিপি ১৭ শতাংশ এবং ১৮.৬ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দল-মত-নির্বিশেষে সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর চেয়ে সরেজমিন নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। বিএনপির ৪৯ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ভয়ভীতির ঘটনা ঘটতে পারে, ২০ শতাংশ ব্যালট ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করছেন, ৩৩ শতাংশ প্রতারণা হতে পারে বলে মনে করেন এবং ১৫ শতাংশ সরকারি পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের ৭১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ভয়ভীতির ঘটনা ঘটতে পারে, ২৯ শতাংশ ব্যালট ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করছেন, ৩৬ শতাংশ প্রতারণা হতে পারে বলে মনে করেন এবং ১৯ শতাংশ সরকারি পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এনসিপির ক্ষেত্রে ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন ভয়ভীতির ঘটনা ঘটতে পারে, ৪৫ শতাংশ ব্যালট ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করছেন, ৪৩ শতাংশ প্রতারণার আশঙ্কা করেন এবং ৩১ শতাংশ সরকারি পক্ষপাতিত্ব হতে পারে বলে মনে করেন।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বাকি এক সপ্তাহে কী ঘটনা ঘটছে, তা নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে। এই সময় ভোটাররা দল পরিবর্তন কিংবা নেতা নির্বাচন করবেন। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বী ও নারী ভোটারদের ওপর নির্ভর করবে কারা নির্বাচিত সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- আওয়ামীলীগের* ৫২%,ভোটারের
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: