গলাচিপায় আনন্দঘন পরিবেশে মা-মনসা পূজা অনুষ্ঠিত
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে মা-মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার বাউরিয়া শ্রীশ্রী নাগমাতা সেবাশ্রমে ২৩তম বারের মতো এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজাকে ঘিরে দিনভর মন্দির প্রাঙ্গণে ছিল ভক্ত ও পূণ্যার্থীদের ব্যাপক সমাগম।
সকাল থেকে মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা, প্রার্থনাসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। ভক্তরা মা-মনসার উদ্দেশ্যে দুধ, কলা, সরা, ঘটসহ বিভিন্ন উপাচার নিবেদন করেন এবং নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।
পূজায় উপস্থিতি কয়েকজন ভক্তরা বলেন, তারা প্রতিবছর বাউরিয়া শ্রীশ্রী নাগমাতা সেবাশ্রমে মা-মনসার পূজায় অংশ নিতে আসেন। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা, রোগ-শোক ও বিপদ থেকে মুক্তি এবং মনের বাসনা পূরণের আশায় তারা দেবীর কাছে মানত করেন।
শ্রীশ্রী নাগমাতা সেবাশ্রমের সেবক ও সাধক আচার্য শ্রী গোবিন্দ গোস্বামী বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে এ সেবাশ্রমে মা-মনসার পূজা হয়ে আসছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এখানে পূজায় অংশ নিতে আসেন। নানা সমস্যা থেকে মুক্তি ও মনোবাসনা পূরণের আশায় তারা দেবীর কাছে মানত করেন। এবারের পূজায়ও দিনভর ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
মা-মনসা বাংলার লোকজ হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক দেবী। তাকে সর্পদেবী হিসেবে পূজা করা হয়। সর্পদংশন থেকে রক্ষা, রোগ-শোক থেকে মুক্তি, প্রজনন ও সমৃদ্ধির আশায় বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তার পূজা প্রচলিত রয়েছে। শ্রাবণ মাসের নাগপঞ্চমীতে মা-মনসার পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা মনসামঙ্গল কাব্যেও দেবী মা-মনসার কাহিনি উঠে এসেছে। চাঁদ সওদাগর, বেহুলা ও লখিন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ কাহিনি বাংলার লোকসংস্কৃতিতে আজও ব্যাপকভাবে পরিচিত।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: