• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ আগষ্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

মনোহরদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩২ পিএম;
মনোহরদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

‘টাকা না দিলে দলিল সাবমিট হয় না’—দলিল লেখকদের দাবি

 

নরসিংদীর মনোহরদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি ও অন্যান্য খরচের বাইরে প্রতিটি দলিলের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দলিলের ধরন, মূল্য কিংবা পৃষ্ঠার সংখ্যা বিবেচনা না করেই প্রতিটি দলিলের জন্য এই অর্থ দিতে হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই টাকা মনোহরদী দলিল লেখক সমিতির নামে নেওয়া হয়।

দৈনিক পুনরুত্থানের অনুসন্ধানে এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে মনোহরদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত অন্তত ছয়জন দলিল লেখকের সঙ্গে। তাদের বক্তব্যে অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা আদায়ের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে।

দলিল লেখকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলিলটি সাব-কবলা, হেবা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনেরই হোক না কেন, প্রতি দলিলের জন্য ৪ হাজার টাকা দিতে হয়। এমনকি মাত্র এক পৃষ্ঠার দলিলের ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ অর্থ দিতে হয় বলে তারা দাবি করেছেন।

তাদের আরও দাবি, নির্ধারিত এই অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট দলিল সাবমিট করা যায় না।

এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—দলিল নিবন্ধনের সরকারি ফি ও নির্ধারিত অন্যান্য খরচের বাইরে এই অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা কোন নিয়মে এবং কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে?

এটি কি কোনো সরকারি নির্ধারিত ফি? নাকি দলিল লেখক সমিতির নিজস্ব অর্থ? যদি সমিতির অর্থ হয়ে থাকে, তাহলে দলিলপ্রতি নির্দিষ্ট ৪ হাজার টাকা কেন এবং কীভাবে বাধ্যতামূলক করা হলো?

এক পৃষ্ঠার দলিলেও ৪ হাজার টাকা!

অনুসন্ধানে কথা বলা দলিল লেখকদের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি।

তাদের দাবি, দলিলের আকার ছোট-বড় কিংবা ধরন ভিন্ন হলেও ৪ হাজার টাকার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। এমনকি একটি দলিল মাত্র এক পৃষ্ঠার হলেও একই পরিমাণ টাকা দিতে হয়।

দলিল লেখকদের এই বক্তব্য সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—দলিলের পরিমাণ বা কাজের ধরন বিবেচনা না করে একই হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ভিত্তি কী?

অর্থের গন্তব্য কোথায়?

প্রতি দলিলে অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও এই অর্থের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ দলিলগ্রহীতাদের কাছে কতটা স্বচ্ছতা রয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এই অর্থের কোনো লিখিত হিসাব রাখা হয় কি না, কার কাছে জমা দেওয়া হয়, কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয় এবং এর সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অনুসন্ধানের বিষয়।

বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধানে দলিল লেখক সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য, যা পরবর্তী কিস্তিতে প্রকাশ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত যে প্রশ্নটি সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে তা হলো—

প্রতি দলিলে অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত এই অর্থের গন্তব্য কোথায়?

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করে ধারাবাহিক অনুসন্ধান প্রকাশ করবে দৈনিক পুনরুত্থান।

 

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন