• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ঈদযাত্রায় কঠিন চ্যালেঞ্জ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৫৭ এএম;
ঈদযাত্রায় কঠিন চ্যালেঞ্জ
  • সড়ক, নৌ ও রেলযাত্রীদের কষ্ট কমানোর কিছু বিকল্প উপায়

প্রতিবছর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রিয়জনদের কাছে ছুটে যাওয়া, আবার জীবিকার টানে ফিরে আসা—এ দুই দফার যাত্রাপথে কী যে সীমাহীন কষ্ট, তা আর নতুন করে বর্ণনার দরকার মনে করি না। তাই এবার উভমুখী ঈদযাত্রা সামনে রেখে আমরা এমন কিছু প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিই, যা পড়ে যাত্রীসাধারণের কিছুটা হলেও উপকারে আসে। পরিচিত দুর্ভোগগুলোর সঙ্গে এবার নতুন যুক্ত হয়েছে তেলসংকট। আবার যাওয়ার সময় কয়েক দিন, কিন্তু ফেরার সময় কম।

সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জটা কঠিন বলেই মনে হচ্ছে; যদিও নতুন সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যাত্রীদের। এই পরিস্থিতিতে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী সেল থেকে আজ পাঁচটি প্রতিবেদন পরিবেশন করা হলো, যেগুলোতে সড়ক, নৌ ও রেল যাত্রাপথে ভোগান্তির জায়গাগুলো ঠিক কোথায়; তা কমানোর কোনো বিকল্প আছে কি না এবং সর্বোপরি এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কিভাবে সম্ভব, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে

 

সড়কে কষ্ট বেশি বিকল্পও আছে

রেলে শুধুই অভাব ধাপে ধাপে ফিরুন

নৌযাত্রার শঙ্কা কাটাতে কৌশলও অনেক

ঢাকা চট্টগ্রাম কক্সবাজার রুটে বহু বিকল্প পথ

ঈদযাত্রার ভোগান্তি স্থায়ীভাবে কমাতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

প্রতিবছর ঈদের সময় আপনজনদের কাছে যাওয়া, আবার ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসার পথে যে মানবেতর, বীভৎস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণে গতানুগতিক ধারার বাইরে বেশ কিছু উদ্যোগের পরামর্শ মিলেছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। যেমন, ঈদের সময় সরকারি ‘পরিবহন পুল’ ব্যবহার এবং ‘জাকার্তা মডেল’ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম হাদিউজ্জামান। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বর্তমানে বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করেই ঈদযাত্রাকে অনেকটা স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব।

ঈদের সময় কেন এই বিশাল জনস্রোত তৈরি হয়, তার মূল কারণ হিসেবে এই বিশেষজ্ঞ ঢাকাকেন্দ্রিক পলিসিকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, আমরা সব কর্মসংস্থান ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ বা গাজীপুরকেন্দ্রিক করে ফেলেছি। যেহেতু এখানে বসবাসকারী প্রায় সবাই গ্রাম থেকে আসা, তাই তারা শিকড়ের টানে ফিরবেই। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও ঈদের সময় আড়াই কোটি মানুষ শহর ছাড়ে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে কর্মসংস্থান তৈরি করা, যাতে মানুষকে কাজের প্রয়োজনে ঢাকায় এসে ভিড় করতে না হয়।

বিকল্প সমাধান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাদিউজ্জামান জানান, যাত্রীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো জাদুকরি সমাধান না থাকলেও সরকার চাইলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে। তিনি প্রস্তাব করেন, ঈদের ছুটির সময় সচিবালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর) অসংখ্য বাস অলস বসে থাকে। এই বিশাল ‘পরিবহন পুল’ যদি ঈদের ৭-১০ দিন সাধারণ যাত্রীদের জন্য রুট অনুযায়ী নামিয়ে দেওয়া হয়, তবে পরিবহনের জোগান বহুগুণ বেড়ে যাবে। জোগান বাড়লে ভাড়ার নৈরাজ্য এবং কালোবাজারি আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যাতে দুর্ঘটনা কমে। আমাদের দেশেও দক্ষ চালকসহ এই সরকারি বাসগুলো ব্যবহার করা সম্ভব, যা বেসরকারি খাতের ওপর চাপ কমাবে।

হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অন্তত দুই মাস আগে থেকে একটি ফর্ম ফিলাপ বা জরিপের মাধ্যমে জানা সম্ভব কোন গন্তব্যে কত মানুষ যেতে চায়। যদি জানা যায় ১০ হাজার মানুষ খুলনা যাবে, তবে সেই অনুযায়ী পরিবহন পুলের বাসগুলো বরাদ্দ করা সম্ভব। এটি একটি ‘ক্রাইসিস মোমেন্ট’ বা যুদ্ধকালীন অবস্থার মতো বিবেচনা করে সরকারকে এই বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে।

নিরাপদ যাতায়াতে যাত্রীদের করণীয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, সরাসরি ট্রেন বা বাসের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ‘কাটা পথে’ ছোট যানে যাতায়াত করেন। কিন্তু এই থ্রি-হুইলার বা ফিটনেসবিহীন যানগুলো সড়কে আরো বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবার ও ব্যাগ নিয়ে বারবার বাহন পরিবর্তন করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই পর্যাপ্ত সরকারি জোগান না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো কঠিন।

হাদিউজ্জামান মনে করেন, বেসরকারি বাস মালিকরা হয়তো এই ‘পরিবহন পুল’ ব্যবস্থার বিরোধিতা করবেন; কিন্তু জনস্বার্থে সরকারকে এমন সাহসী ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতেই হবে, যাতে ঈদযাত্রা প্রকৃত অর্থেই আনন্দদায়ক হয়।

হাদিউজ্জামানের ভাষ্য, এবারের ঈদযাত্রায় নতুন এক উপদ্রব জুটেছে। জ্বালানি তেলের সংকট। সরকার বলছে মজুদ আছে প্রচুর; কিন্তু পাম্পে গেলেই শোনা যাচ্ছে ‘নাই’।

তিনি মনে করেন, এটি একটি ‘নতুন ডাইমেনশন’। রেশনিং তুলে দেওয়ার পরও যদি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকে, তবে বুঝতে হবে মাঝখানে কেউ কলকাঠি নাড়ছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কৃত্রিম সংকটের খেলা যদি এখনই থামানো না যায়, তবে ফিরতি পথের যাত্রাটা হবে এক দুঃস্বপ্নের মতো।

নৌপথের সমাধান যেভাবে : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মীর তারেক আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নৌ সেক্টরের  দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে নৌপথে নৌ দুর্ঘটনার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে এ জন্য একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ঈদের সময় যেহেতু বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়, সেহেতু নৌপথেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে নৌযান চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী, অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন রোধ করতে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন সময় নৌ দুর্ঘটনার পর যে সুপারিশগুলো করা হয়, সেগুলো যথাযথভাবে না মানার কারণে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আমরা বিভিন্ন সময় সুপারিশ দিয়েছি, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সুপারিশ দেওয়ার পর কিছু কাজ হয় কিন্তু এরপর আর কাজ হয় না। এ ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মালিক ও যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।’

নৌযানের ফিটনেস পরীক্ষা : নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটুকু আছে, চালকের দক্ষতা ইত্যাদি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য এবং সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে এই বিশেষজ্ঞ আলাদা একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। যে কমিটি নিয়মিত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন কালবৈশাখীর মৌসুম। তাই নৌযানগুলো চলাচলের আগে যেন আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেয়। একই সঙ্গে বালুবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের যে নির্দেশনা সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা নজরদারিতে রাখতে হবে বিশেষ করে ঈদের সময় নৌযান চলাচলের বিধি-নিষেধ মানা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

বিভিন্ন জায়গায় যে স্পিডবোট চলাচল করে সেগুলোতে পর্যাপ্ত সেফটি ব্যবস্থা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, নির্দিষ্ট রুট ব্যতীত চলাচল না করা, রাতে চলাচলে বিধি-নিষেধ প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে আহবান জানান তিনি। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

রেলে যা যা দরকার : বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম হাদিউজ্জামানের মতে, যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকারের সবচেয়ে বড় করণীয় হলো—রেলের ইঞ্জিনের সংকট দূর করা। পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে অতি দ্রুত অন্তত ৫০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সৈয়দপুর, পাহাড়তলী ও পার্বতীপুর রেলওয়ে কারখানাগুলোকে আধুনিকায়ন করে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে বিদেশ থেকে কোচ আমদানির বদলে আমরা নিজেরাই তা তৈরি করতে পারি। কারখানায় জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ওপরও তিনি জোর দেন।

প্রয়োজন ‘সিস্টেম-ড্রিভেন’ ব্যবস্থাপনা : ঈদ এলেই রেলস্টেশনগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও যাত্রী ভোগান্তির যে চিত্র দেখা যায়, তা থেকে উত্তরণের জন্য সনাতন পদ্ধতির বদলে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্ট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক। তিনি বলেন, শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে সাময়িক তৎপরতা চালিয়ে রেলের বিপুল যাত্রীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন ‘সিস্টেম-ড্রিভেন’ বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, যেখানে পরিকল্পনা, তথ্যব্যবস্থা ও সেবার মান উন্নয়ন—সবকিছুই দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে। ট্রেনের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. শামসুল হক বলেন, বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই রোলিং স্টক—অর্থাৎ ইঞ্জিন ও বগি ব্যবহার করে কিভাবে দ্রুততার সঙ্গে বেশিসংখ্যক ট্রিপ পরিচালনা করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহ করে ট্রেনের মতো গণপরিবহনকে শক্তিশালী করতে পারলে যানজট কমবে এবং মানুষ দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবে। ঈদের ঠিক আগের এক-দুই দিনে রেলস্টেশনগুলোতে যে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়, তা সামলানো বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই চাপ কমাতে ‘চাহিদা বিভাজন’ বা ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টের পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, ঈদের বোনাস অন্তত ১৫ দিন আগে দেওয়া হলে অনেকেই পরিবারকে আগেভাগে গ্রামে পাঠাতে পারবেন। এতে শেষ মুহূর্তে রেলের ওপর যে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমে আসবে।

রেলযাত্রাকে আরো সুশৃঙ্খল করতে তিনি রিয়াল টাইম তথ্য ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেন। ড. শামসুল হকের মতে, গুগল ম্যাপ যেভাবে সড়কের যানজট সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দেয়, তেমনি রেলের ক্ষেত্রেও একটি আধুনিক ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থাকা দরকার, যেখানে যাত্রীরা জানতে পারবে কোন ট্রেনে কতটা ভিড় রয়েছে কিংবা বিকল্প কোনো রুটে—যেমন নৌপথে আসন খালি আছে কি না। এ ধরনের স্মার্ট ইনফরমেশন সিস্টেম থাকলে যাত্রীরা নিজেরাই বিকল্প পথ বেছে নিতে পারবে, ফলে এককভাবে রেলের ওপর চাপ কমবে এবং বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে।

তিনি আরো বলেন, রেলের উন্নয়ন বলতে কেবল হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণ বোঝালে চলবে না; বরং বছরজুড়ে সেবার মান নিশ্চিত করাই আসল বিষয়। অতীতে বিপুল বিনিয়োগের পরও কেন রেলের সক্ষমতা প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি এবং যাত্রী দুর্ভোগ কমেনি, সেসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ, আধুনিক কম্পার্টমেন্ট এবং দক্ষ লোকোমাস্টার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ট্রেনের ছাদে উঠে বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাদাগাদি করে যাতায়াত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঈদযাত্রাকে ‘ঠেকা দেওয়া’ ধরনের ব্যবস্থাপনার ওপর না রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে। এ ছাড়া শুধু রেল বা সড়কের ওপর চাপ না রেখে নৌপথসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, নৌপথের বাধাগুলো দূর করে এই মাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলে সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরামর্শ : সড়কবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদের সময় চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। এর বাইরে আন্ত জেলায় প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করে। এত মানুষ বহন করার মতো পরিবহন দেশে নেই। তাই বাধ্য হয়ে কয়েক লাখ মানুষ মোটরসাইকেলে যাতায়াত করে। সিটি সার্ভিসের ভাঙাচোরা বাস তো আছেই, এমনকি নছিমন-করিমন পর্যন্ত দেখা যায়।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহ বা এক মাসের পরিকল্পনায় কোনো দিনই ঈদযাত্রার দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিবহন পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে ট্রেনের বগি ও লেন, মানসম্মত গণপরিবহন বাড়াতে হবে। সড়ক, নৌ ও রেলপথ ঘিরে কমপক্ষে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে এই খাতের দুর্ভোগ চিরতরে বিদায় নেবে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে সরকারকে আরো কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছে, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র-যুবকদের সম্পৃক্ত করে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নিরাপদ ঈদযাত্রা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে টেলিভিশন ও বিটিআরসির সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পরিবহন ব্যবস্থাকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করলে গণপরিবহনের ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছে তারা। ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, মহাসড়কে সিটি সার্ভিস বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাতের বাসে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্পিড ব্রেকার ও সাইন-মার্কিং উন্নত করা, মহাসড়কে মোবাইল টয়লেট স্থাপন এবং ঈদের সময় ঘরমুখো ও ফিরতি উভয় যাত্রায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের হাসপাতালগুলোতেও জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন