তথ্য গোপনের অভিযোগের পর ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশনের লিখিত অভিযোগ
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আবেদন করেও দীর্ঘদিন তথ্য না পাওয়ার অভিযোগের পর এবার মনোহরদীর ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ এনে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার কাছে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাবেক ছাত্রদল নেতা প্রকৌশলী এনামুল হক আল-আমিন এ স্মারকলিপি জমা দেন। অভিযোগে বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জুলাই দৈনিক পুনরুত্থান-এ প্রকাশিত "তথ্য অধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি? নীরব ইউএনও, ডিসি ও তথ্য কমিশন" শীর্ষক প্রতিবেদনে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আবেদন, প্রথম আপিল এবং তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়েরের পরও দীর্ঘ সময় তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেই অভিযোগের পর এবার ইউএনওর বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ ও কমিশন দাবির অভিযোগ সামনে এলো।
‘৭ শতাংশ কমিশন না দিলে বিল নয়’—অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে প্রকৌশলী এনামুল হক আল-আমিন দাবি করেন, ২০২৫ সালে প্রায় ৭৮ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল উত্তোলনের সময় ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহান তার কাছে ৭ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। কমিশনের অর্থ পরিশোধ না করলে বিল ছাড় দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন বিল আটকে থাকার পর বাধ্য হয়ে পৌরসভার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে পরিশোধ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্য অধিকার আইনের আবেদনেও মিলেনি তথ্য
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার গত দুই অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব, ১ শতাংশ ভূমি হস্তান্তর কর, এডিপি বরাদ্দ, হাট-বাজার ইজারা এবং অন্যান্য উন্নয়ন খাতের তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আবেদন করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রথম আপিল এবং তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগকারী স্মারকলিপিতে কমিশন দাবির অভিযোগ, তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, "সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য চেয়েছিলাম। কিন্তু তথ্য না দিয়ে উল্টো নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এখন আমি চাই, একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক।"
ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্তের আবেদন
অভিযোগকারী জানান, লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: