শামুক তুলতেও দিতে হয় চাঁদা!
শামুক তুলতেও দিতে হচ্ছে চাঁদা। নেত্রকোনায় মানা হচ্ছে না সাবেক মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশনা।
এ নিয়ে স্থানীয় এমপি ও খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের ওয়ালিদ মিয়া।
অভিযোগে জানা যায়, খালিয়াজুড়ী উপজেলার জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে দরুন্দা খালটি মদন উপজেলার শেষ সীমানায় উপস্থিত। গত ৩ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের আমন্ত্রণে হাওড়াঞ্চলে আসেন এবং মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ীর বিভিন্ন জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এ বছর হাওড়াঞ্চলে সব খাল বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশীয় প্রজাতি মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছিলেন, হাওড়ে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ জাল ফেলা যাবে না। এই পোনাগুলো আপনাদের জন্যই ছাড়া হচ্ছে। এই মাছ যদি ছয় মাস না ধরেন তাহলে দুই থেকে তিন কেজি ওজন হবে। এখন থেকে হাওড় উন্মুক্ত থাকবে। কোনো ধরনের ইজারা দেওয়া হবে না।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা না মেনে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে দরুন্দা খাল খাস কালেকশন নামে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।
তবে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিনিধি সৈয়দ আমিনূল হাসান (রুজেল) বলেন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নির্দেশে জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে দরুন্দা খালে ফিশিং করার ব্যবস্থা নেই। মন্ত্রী ও আমাদের এমপি যেহেতু বলেছেন- এখন থেকে জলাশয় উন্মুক্ত থাকবে। তবে আমার বিরুদ্ধে যে শামুক উত্তোলন করতে চাঁদা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা বানোয়াট। অভিযোগটি সঠিক না।
মেন্দিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আপনারা খালিয়াজুড়ী ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করুন।
খালিয়াজুড়ীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- শামুক তুলতেও দিতে
- হয় চাঁদা!
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: