আলফাডাঙ্গায় মধুমতির ভাঙ্গনে দিশেহারা নদী পারের বাসিন্দারা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে নদী পারের বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে মধুমতি নদীর আকস্মিক ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। অসময়ের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে দুইটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে সম্প্রতি মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ শেখ ও মনা শেখের বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। রাতারাতি বসতভিটা হারিয়ে দুই পরিবার এখন কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সোহাগ শেখ বলেন, বহু কষ্টে গড়ে তোলা তার একমাত্র বসতভিটা মুহূর্তের মধ্যেই নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখন তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ভিটাটাই ছিল আমার সব। নদী সেটাও নিয়ে গেল। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবো।”
অন্যদিকে ভুক্তভোগী মনা শেখের স্ত্রী নিহার বেগম জানান, তাদের কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিন মেয়ে বিয়ের পর নিজ নিজ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। তিনি একাই ওই বাড়িতে থাকতেন। শুক্রবার মাগরিবের সময় হঠাৎ নদীর ভাঙন শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যেই তার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিনি বলেন, এর আগেও কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়লেও এবার পুরো বসতভিটাই হারিয়ে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর ভাঙন নতুন কোনো ঘটনা নয়। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে চলতি সময়ে আকস্মিক ভাঙনে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে নদীভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলা বা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙন কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তথ্য সূত্র: ফরিদপুর প্রতিদিন!
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- আলফাডাঙ্গায়* মধুমতির,ভাঙ্গনে
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: