• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পাম্পে ভিড়, ভোগান্তি চরমে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১৯ এএম;
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পাম্পে ভিড়, ভোগান্তি চরমে

ঈদুল ফিতর ঘিরে সরকারি আশ্বাস ছিল, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোয় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। কোথাও তেল সরবরাহ বন্ধ, কোথাও সীমিত বিক্রি, আবার বন্ধ পাম্পের সামনেও গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে যানবাহন চালকদের।

অন্যদিকে সরকারপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ব্যাংক খোলার ফলে এরই মধ্যে ডিপো থেকে পাম্পগুলোয় নতুন করে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করারও আহবান জানানো হয়েছে, যাতে অযথা ভিড় বা আতঙ্ক তৈরি না হয়।

ঈদে সাত দিনের ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুললেও সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন গাড়িচালকদের।

আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, বিজয় সরণি, খিলক্ষেতসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একই দৃশ্য দেখা গেছে। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল ফুরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা।

চালকরা জানিয়েছেন, একাধিক পাম্প ঘুরেও তাঁরা তেল পাননি। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে মাঝপথে আটকে পড়েছেন।

সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে। এতে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটেছে।

বিপিসি ও পেট্রল পাম্প মালিকরা বলছেন, মূল সমস্যার একটি বড় কারণ হলো ঈদের দীর্ঘ ছুটি। ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকায় ফিলিং স্টেশন মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে তাঁরা ডিপো থেকে নতুন করে জ্বালানি তুলতে পারেননি।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় ব্যাংকনির্ভর এই প্রক্রিয়া জ্বালানি সরবরাহকে অচল করে দেয়।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে চলমান সংকট শিগগিরই কেটে যাওয়ার লক্ষণ আমরা দেখছি না। তবে এটি যেহেতু বৈশ্বিক সংকট, তাই আমাদের কিছুদিন মেনেই চলতে হবে। সংকট দূর করতে হলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরো বাড়াতে হবে। সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া এই সংকট দূর করা সম্ভব না।’  

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘ডিপোগুলোয় পর্যাপ্ত তেল আছে। পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি এবং সরবরাহও কমায়নি। তাই পেট্রল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন ধরে জ্বালানি তেল সংগ্রহের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জনগণের কাছে এবং যাঁরা গাড়ি চালান, তাঁদের কাছে আমার একটা আহবান থাকবে যে আপনারা প্রয়োজনের বেশি তেল নেবেন না, সে ক্ষেত্রে স্টক করলে ভিড় বাড়বে, লাইন বাড়বে।’ গত বছরের তুলনায় এই বছর ২৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের দিন আর ঈদের পরের দিন সরকারি ছুটি ছিল। সে সময় ডিপোগুলো বন্ধ ছিল। সে জন্য ডিপোগুলো থেকে তেল সরবরাহ করা হয়নি। এ জন্য হয়তো বা পেট্রল পাম্পগুলোয় তেলের স্বল্পতা থাকতে পারে। তবে আজ (গতকাল) সকাল থেকে আবার ডিপোগুলো চালু হয়ে গেছে। পেট্রল পাম্প তেল পাচ্ছে। তেলের জন্য পেট্রল পাম্পগুলোয় লাইন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি প্রকৃত অর্থে জ্বালানিসংকট নয়; বরং পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ঘাটতির ফল। তাঁরা বলছেন, দেশের ডিপোগুলোয় পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি বলে সরবরাহে ঘাটতি নেই, তাহলে দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এটি সরবরাহ নয়, ব্যবস্থাপনার সংকট। ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।’

গতকাল সকালের দিকে আসাদগেট এলাকায় তালুকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় যানবাহনের লম্বা লাইন। তেলের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় গাড়ি চালকরা। কিন্তু পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের আরো কিছু সময় অপেক্ষায় থাকতে বলছেন পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের একজন বিক্রয়কর্মী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তেলের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। যার প্রয়োজন ২ লিটার, সে নিচ্ছে ৫ লিটার। এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। আমাদেরও তেল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেলেও লাইন শেষ হচ্ছে না। ডিপো থেকে তেল আসতে আসতে আবার লম্বা লাইন তৈরি হচ্ছে।’

বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও গতকাল সকালে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। পাম্পটিতে তখন তেলের জন্য যানবাহনের সারি জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়েছে। পাম্পটি থেকে তেল নিতে মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মো. এহসানুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তেল নিতে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, সাড়ে ৯টার দিকে শুনলাম তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ডিপো থেকে তেল নিয়ে গাড়ি আসতেছে, তেল আনা হলে আবার সরবরাহ শুরু হবে। গাড়িতে একদমই তেল নেই, যার কারণে এখন অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

 

ডিজেলের মজুদ ১৪ দিনের, অকটেনের ৯ দিন

বর্তমানে দেশে সবচেয়ে ব্যবহৃত জ্বালানি ডিজেলের মজুদ রয়েছে মাত্র ১৪ দিনের, আর বিলাসবহুল ও ব্যক্তিগত যানবাহনের প্রধান জ্বালানি অকটেনের মজুদ নেমে এসেছে মাত্র ৯ দিনে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। এই নৌপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনি। বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বাংলাদেশের আমদানির পূর্বনির্ধারিত সূচি ওলটপালট হয়ে গেছে।

বিপিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত দেশে ২০ থেকে ২৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখাকে নিরাপদ মনে করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বিপিসির পরিসংখ্যান বলছে, দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন। বর্তমানে মজুদ আছে এক লাখ ৮৫ হাজার টন, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৪ দিন চলা সম্ভব। এ ছাড়া অকটেন বর্তমানে মজুদ আছে মাত্র ১১ হাজার টন। দৈনিক চাহিদা বিবেচনায় এটি দিয়ে মাত্র ৯ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে। আর পেট্রল মজুদ রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা চলবে ১১ দিন। ফার্নেস অয়েল ২৯ দিন, জেট ফুয়েল ২৩ দিন ও কেরোসিন ৪৬ দিনের মজুদ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘চলতি মাসে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে মোট ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও ২৩ মার্চ পর্যন্ত পৌঁছেছে মাত্র আটটি। বাকি ৯টি জাহাজের মধ্যে ছয়টির ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চীনের ইউনিপেক ও মালয়েশিয়ার পেটকো ট্রেডিং জানিয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তারা নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছাতে পারছে না। এমনকি সৌদি আরব থেকে আসার কথা থাকা এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলের জাহাজটিও টার্মিনালে আটকে আছে।’

বিকল্প উৎস হিসেবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১০ হাজার টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সরকার এখন সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অতিরিক্ত খরচে তেল আনার নতুন চুক্তি করেছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটছে জাহাজ ভাড়ার ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজ ভাড়ার প্রিমিয়ামও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ ফেলছে।

দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে। দৈনিক সাড়ে চার হাজার টন শোধন ক্ষমতা অনুযায়ী এই মজুদ দিয়ে আরো ১৭-১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হলো, নতুন করে অপরিশোধিত তেলের চালান না এলে শোধনাগারটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। সে ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, এই মুহূর্তে সরকারের দুটি কাজ করা জরুরি। প্রথমত, আমদানির বিকল্প উৎস দ্রুত নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, চাহিদার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা। তিনি বলেন, ‘যদি পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়, তবে আমাদের রেশনিং ব্যবস্থায় যেতে হবে। এ ছাড়া ড্রাম বা কনটেইনারে করে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে, যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্টের লজিস্টিক সাপোর্ট আরো বাড়াতে হবে, যাতে জাহাজ আসামাত্র দ্রুত তেল খালাস করা যায়।’

তেলসংকটে সাগরে জেলেদের মাছ ধরা ব্যাহত

দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় মাছ ধরা, কৃষি, লবণ উৎপাদন ও পরিবহন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। কক্সবাজারে ডিজেল ও পেট্রল সংকটে সাগরে মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানির তুলনায় অর্ধেকেরও কম পাচ্ছে, ফলে অনেক জেলে সাগরে যেতে পারছেন না। এতে বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটে লবণ চাষ ও পাহাড়ি কৃষি খাতেও সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা মাছধরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জেলায় মাছধরার ইঞ্জিন নৌকা রয়েছে পাঁচ হাজার ২৫০টি। সাগরে মাছ কমে যাওয়ায় প্রায় অর্ধেকসংখ্যক নৌকা এমনিতে বসে রয়েছে। তবে মাছ ধরারত দুই হাজার নৌকা বর্তমানে জ্বালানিসংকটের মুখে পড়েছে।’ তিনি জানান, জ্বালানিসংকট দীর্ঘমেয়াদি হলে সামুদ্রিক মাছের ব্যাপক সংকট দেখা দেবে বাজারে।

 

ঢাকার বাইরেও জ্বালানির তীব্র সংকট

খুলনা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তেলসংকটে পেট্রল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লেগে আছে। অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা ঝুলছে এবং সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়া গেলেও তা মুহূর্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক পাম্পে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং প্রাইভেট কারে ১০ লিটার তেল দেওয়া হলেও চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালসংলগ্ন মেসার্স গোলাম হোসেন ফিলিং স্টেশনে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। মোটরসাইকেলচালক এম. মোর্শেদ বলেন, নগরীর কিছু পাম্পে তুলনামূলক কম ভিড় থাকায় তিনি নিয়মিত তেল নিতে পারছেন। তবে খুলনা থেকে আড়ংঘাটা পর্যন্ত প্রায় সব পাম্পে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে। বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল বুধহাটা, ধুলিহর, এবি খান ও আলীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মধ্যে কিছু স্থানে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি হলেও অধিকাংশ স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ ছিল। এদিকে খোলা বাজারে বাড়তি দামে পেট্রল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আদমদীঘিতে চারটি ফিলিং স্টেশনে অকটেনসংকট দেখা দিয়েছে। ফলে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেট্রল নিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল দেওয়া হচ্ছে, যা ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় একমাত্র ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হিমালয়  ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের পেট্রলের যে চাহিদা তার অর্ধেকের চেয়েও কম পেট্রল পাচ্ছি।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন তোফায়েল আহমদ (কক্সবাজার), মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, (চট্টগ্রাম), এইচ এম আলাউদ্দিন (খুলনা), মোশাররফ হোসেন (সাতক্ষীরা), আসাদুল করিম মামুন (কেন্দুয়া, নেত্রকোনা) ও তরিকুল ইসলাম জেন্টু (আদমদীঘি)।)

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন