• ঢাকা
  • বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

এমপি নজরুলকে ঘিরে বেরিয়ে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:১৮ পিএম;
এমপি নজরুলকে ঘিরে বেরিয়ে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আসছে। 

বুধবার (২৯ জুলাই) তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও আলোচিত তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় চাকরি, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তা ধামাচাপা দিতে অর্থ, পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তার।

ইতোমধ্যে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একের পর এক মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম আত্মীয়তার সূত্রে আলোচিত তরুণীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে ওই পরিবারের বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সংসদ সদস্যদের সরকারি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুর।

তার ভাষ্য, গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে অনুসন্ধান করে তিনি জানতে পারেন, গোপন যোগাযোগের জন্য তরুণীকে আলাদা একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছিল। ওই ফোনে ব্যবহৃত সিমটি শ্যামনগরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। 

ওবায়দুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে প্রথমে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে একটি নোয়া গাড়ি, সংসদ ভবনে চাকরি, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস-২) হিসেবে পরিচয় এবং তথাকথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে সংসদ সদস্যের প্রভাব ব্যবহার করা হয়। ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 

ওবায়দুর রহমান জানান, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন তিনি। মামলায় দুজন আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি জেনেও আমি সত্য গোপন করিনি। কোনো প্রলোভনে রাজি না হয়ে আমি যা দেখেছি, তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছি। এখন আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২২ জুলাই নৈতিকস্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তার নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগরে প্রতিবাদের মাত্রা বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। বক্তারা সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন