• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

চাকুরিতে প্রায় একযুগ অতিক্রম হলেও নেই পদোন্নতি, হতাশায় পুলিশ সার্জেন্ট


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১৫ পিএম;
চাকুরিতে প্রায় একযুগ অতিক্রম হলেও নেই পদোন্নতি, হতাশায় পুলিশ সার্জেন্ট

বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সার্জেন্ট পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ১৮৬১সালে পুলিশ সৃষ্টির পর থেকেই সার্জেন্ট পদ  বিদ্যমান।  বাংলাদেশ পুলিশের দর্পণ বলা হয় সার্জেন্ট কে, কারন এই একটি পদের সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান  থাকে জন মানুষের সম্মুখে। হিট ওয়েব, বৃষ্টি, ঝড়,শৈত্য -প্রবাহ,দূষিত সীসা যুক্ত বায়ু,কালো ধোয়া, শব্দ দূষণ ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে  থাকার কারনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি  নিয়ে নগর বাসীকে ট্রাফিক সেবা এবং নিরাপত্তা প্রদান করেন।ফলে রাষ্ট্রের অন্য যে কোন চাকুরী  থেকে এই বিভাগের সদস্যদের গড় আয়ু কমে যায় এবং নানাবিধ অসুখে ভোগে।

২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর জনগণের সাথে বাংলাদেশ পুলিশের সম্পর্ক  চরম অবনতি হয়, অনেক সদস্যদের জীবন দিতে হয়েছে।এমন একটি পরিস্থিতিতে  বাংলাদেশের অনেক থানা অকার্যকর হয়ে পড়ে, ফলে আইন শৃংঙ্খলা চরম ভাবে ভেঙ্গে  পড়ে ।ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা বিশেষ করে সার্জেন্টরা ডিএমপি, সিএমপি সহ সকল জেলা ও মহানগর ইউনিটে ছাত্র জনতার সাথে মিশে সবার আগে রাস্তায় নেমে  ধীরে ধীরে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এত অর্জন থাকার পরেও বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিট ট্রাফিক বিভাগ তথা সার্জেন্ট পদটি।

নাই কাজের সঠিক মূল্যায়ন এবং সময় মতন পদোন্নতি।  সার্জেন্ট হিসেবে পার করতে হয় ১৫-২০ বছর। ২০১১ সালের নিয়োগ প্রাপ্ত সার্জেন্ট গনের পদোন্নতি চলমান তারা নিয়োগ পেয়েছে আজ থেকে ১৫ বছর আগে। বছরে ২০-৩০ জন করে যদি সার্জেন্ট পদোন্নতি পায়। তাহলে ২০১৫ সালে তথা আজ থেকে ১১ বছর আগে যাদের নিয়োগ হয়েছে প্রায় ৬৫০ জন, তাদের পদোন্নতি শেষ হতে সময় লাগবে আরো ১৫-২০ বছর।তার মানে দাঁড়ালো তারা কেউ কেউ ১৫-৩০ বছর সার্জেন্ট হিসেবে থেকে অবসরে যাবে। এর পর ২০১৭ সালে আজ থেকে ৯ বছর আগে ৬৫০ জন নিয়োগ পেয়েছে এবং ২০২৩ সালে প্রায় ৭০০জন নিয়েগ পেয়েছে  তারা অল্প সংখ্যক ইন্সপেক্টর হতে পারবে বাকিরা সার্জেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আবার সার্জেন্ট হিসেবে অবসরে যাবে। আমরা যদি একটু পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করি ১৯৯৪ সালের কনস্টেবলে ভর্তি হয়ে পদন্নোতি পেয়ে ২০২৫সালে এএসপি হয়েছেন অনেকে।এবং তাদের পদন্নোতি সংখ্যা --০৪টি।

১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে এএসপি পদে যোগদান করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পদন্নোতি পেয়ে অতিঃ আইজিপি হয়েছেন অনেকে ।এবং তাদের পদোন্নতির সংখ্যা ০৫টি অন্যদিকে ১৯৯৪ সালে সার্জেন্ট /এসআই পদে ভর্তি হয়ে  ২০২৫ সালে পদন্নোতি পেয়ে এএসপি হয়েছেন কিছু সংখ্যক এবং তাদের পদন্নোতি সংখ্যা- মাত্র ০২টি। অথচ এই সার্জেন্ট /এসআই পদই বাংলাদেশ পুলিশের মেরুদণ্ড বা আয়না বা সকল অপারেশনাল কাজের উৎস এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জনগণের অধিকাংশ সেবা সরাসরি  এই দুই পদের সদস্যদের দ্বারা প্রদান করা হয়।বাংলাদেশের অন্যান্য অধিদপ্তর/মন্ত্রানালয়ে একজন ১৪গ্রেডের অফিস সহকারী/সাটমূদ্রাক্ষরিক সহকারী সচিব পদমর্যাদার নবম গ্রেড প্রাপ্ত হন চাকরির ১৫ বছরের মধ্যেই। একজন গাড়ীচালক পদন্নোতি পায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে। ২০১০,২০১১ সালে ব্যাংকের একজন জুনিয়র অফিসার ২০২৫ সালে এসে ৫ম গ্রেডের  সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হন  ।পুলিশ ব্যতীত  অন্যান্য দপ্তর/মন্ত্রনালয়ে এরকম বহু উদাহরণ আছে।

আর সার্জেন্ট /এসআই পদে ১০বছর  চাকুরী করার পর উচ্চতর গ্রেড পেয়ে হয়, নবম গ্রেড।  এরপর একটি পদন্নোতি ইন্সপেক্টর পদে সেই একই ৯ম গ্রেড । ইন্সপেক্টর পদেই অধিকাংশের চাকরি জীবন শেষ হয় ১টি মাত্র পদোন্নতি নিয়েই,তারপর কারো ভাগ্যে আর একটি পদন্নোতি জোটে এএসপি পদে, সেও একই ৯ম গ্রেড প্রাপ্ত হন। একজন কর্মকর্তা একই গ্রেডে তিনটি পদন্নোতি পান। এই বিষয় সার্জেন্ট আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, চাকরিতে সময় মতন পদন্নোতি এটা আমার অধিকার,আমি ২০১৭ সালে চাকুরীতে যোগদান করে পদন্নোতির সকল যোগ্যতা অর্জন করে আছি কিন্তু আগামী ১০ বছরে পরের ধাপে পদোন্নতি  পাবো কিনা সন্দিহান। 

এই সংকট মুক্তির উপায় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কিছু এএসপি পদ বিলুপ্ত করা হয় ,তা পুনরায় বহাল রাখা। প্রতি জেলায় একজন করে এএসপি (ট্রাফিক) পদ সৃজন করা।প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক করে ও মহানগরে প্রতিটি বিভাগে একটি করে ট্রাফিক থানা সৃজন করা অথবা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি থানায় একটি করে ইন্সপেক্টর (শঃযাঃ) পদ সৃজন করা।

৫০% ডিপার্টমেন্টার পদন্নোতি ও ৫০%সরাসরি এএসপি (বিসিএস) মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা। ট্রাফিকের কোন স্বাধীন ইউনিট না থাকার কারনে, হাইওয়ে পুলিশ কে ট্রাফিক ইউনিট বিবেচনা করে ঢেলে সাজানো এবং হাইওয়ের থানা গুলোতে সার্জেন্টদের অধিক গুরুত্ব দেয়া এবং শতভাগ ট্রাফিক বিষয় অভিজ্ঞ ইন্সপেক্টর (শহর ও যানবাহন)  থেকে পদায়ন করা। কারন ইন্সপেক্টর নিরস্ত্র তাদের কাজ করার ইউনিট অনেক আছে কিন্তু ইন্সপেক্টর শহর ও যানবাহন তাদের কাজ বেশি পরিলক্ষিত হয় সড়কে তাই হাইওয়ে শতভাগ ট্রাফিক নির্ভর করা। হাইওয়ে শতভাগ  ট্রাফিক নির্ভর এবং বাংলাদেশের সকল থানায় একজন করে ইন্সপেক্টর শহর ও যানবাহন পদ সৃজন হলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ  শতভাগ সম্ভব তাতে রাষ্ট্রের কোন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না ।কারন ১০ বছর পার হলে সার্জেন্ট ৯ম গ্রেডে যায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এবং ইন্সপেক্টর পদ ৯ম গ্রেডের তাই রাষ্ট্রের কোন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না। 

আশাকরি বর্তমান গনতান্ত্রিক    সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বাংলাদেশ পুলিশের অধস্তন সদস্যদের কল্যান ও সন্তুষ্টির  লক্ষ্যে  উপরোক্ত দাবিগুলো তথা সমস্যা গুলি সমাধানে কাজ করে বাংলাদেশ পুলিশকে আরো জনবান্ধব করে তুলবে।জনগনের আকাঙ্খার কাঙ্ক্ষিত পুলিশ হতে সর্বচ্চ অগ্রাধিকার দিবেন।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন