আমতলী চৌরাস্তায় নেই ট্রাফিক পুলিশ বক্স, বিড়ম্বনায় পুলিশ
মোঃ আঃ কাইয়ুম, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :
বরগুনার অতিগুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ বক্স না থাকায় চরম প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করলেও তাঁদের নেই কোনো নির্ধারিত আশ্রয়স্থল। ফলে একদিকে যেমন পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে সড়কের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও সড়ক ব্যবহারকারীদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বাঁধঘাট চৌরাস্তাটি দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। পর্যটন নগরী কুয়াকাটাগামী দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই মোড় অতিক্রম করে। পাশেই আঞ্চলিক যানবাহনের চাপ থাকায় প্রতিনিয়ত এখানে জটিল যানজটের সৃষ্টি হয়। এই ব্যস্ত মোড়ে ট্রাফিক সদস্যদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ও সক্রিয় থাকতে হয়।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক পুলিশের সাময়িক বিশ্রামের জন্য কোনো বক্স বা ছাউনি নেই। দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড রোদে দাঁড়িয়ে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। আবার বৃষ্টি বা হঠাৎ ঝড় শুরু হলে নিরাপদ কোনো আশ্রয় না থাকায় রাস্তার পাশের দোকানপাটে গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। এতে সাময়িকভাবে হলেও মহাসড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স কেবল রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার আশ্রয় নয়; এটি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা, ওয়্যারলেস ও জরুরি নথিপত্র সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের জরুরি সেবাপ্রাপ্তির একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
মানবাধিকার কর্মী আবদুর রহমান সালেহ বলেন, “ঢাকা-কুয়াকাটা একটি ব্যস্ততম মহাসড়ক। এ সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থার মানোন্নয়ন জরুরি। ট্রাফিক সদস্যদের কাজের অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দিলে তাঁরা আরও উৎসাহ ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”
এ বিষয়ে আমতলী থানার ট্রাফিক সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নারায়ণ চন্দ্র মিত্র বলেন, “আমতলী চৌরাস্তায় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপন করা হলে আমাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বর্তমানে আমাদের বাধ্য হয়ে পাশের দোকানে আশ্রয় নিতে হয়। একটি নির্দিষ্ট বক্স থাকলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাফিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সহজ হবে।”
সার্বিক বিষয়ে আমতলী থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সঞ্জীব মিত্র জানান, “সমস্যাটির সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানান। জেলা প্রশাসন বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আমতলীর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, জমি চিহ্নিতকরণ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ওপরই পুলিশ বক্স নির্মাণের পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ স্থান নির্ধারণ শেষ হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ করে আমতলী চৌরাস্তায় একটি আধুনিক ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপন করবে যাতে পুলিশ সদস্যরা মানসম্মত কর্মপরিবেশ পান এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: