• ঢাকা
  • সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

মাদারীপুর থেকে ঢাকা, ৪ হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেল না সোহা মনিকে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:২৩ পিএম;
মাদারীপুর থেকে ঢাকা, ৪ হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেল না সোহা মনিকে

মাথায় ছোট ছোট চুল। রঙিন রাবার ব্যান্ড দিয়ে ওই চুলেই কয়েকটি ঝুঁটি করা। বিছানায় বসে ১০ মাস বয়সী সোহা মনি হাসছে। এ ছবি তোলার কয়েক দিন পরের আরেকটি ছবি ফেসবুকে ঘুরছে। গোলাপি রঙের নকশিকাঁথায় সোহার মুখসহ সারা শরীর মুড়িয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছেন স্বজনেরা। হাম ও নিউমোনিয়ায় ১০ এপ্রিল মারা যায় সে।

চার হাসপাতাল ঘুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের আরআইসিইউতে (শ্বাসতন্ত্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) মারা যায় সোহা মনি। গুরুতর ফুসফুস বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের ভেন্টিলেটরসহ ফুসফুস কার্যক্ষম রাখার বিশেষ সুবিধা আছে এ কেন্দ্রে।

কিন্তু প্রথমবার এখানে ভর্তির সুযোগ হয়নি। স্বজনেরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না হাসিখুশি বাচ্চাটি আর নেই। মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামে নিয়ে শিশুটিকে দাফন করা হয়।

সোহা মনির টিকার কার্ডে বিসিজিসহ অন্য টিকাগুলো কবে দেওয়া হয়েছিল, তা লেখা রয়েছে। ৯ মাস বয়সে হাম ও রুবেলার জন্য এমআর টিকার ঘরটি খালি রয়েছে। সোহার মা লিমা আক্তার বললেন, ‘মেয়েরে শুধু হামের টিকাটা দিতে পারি নাই। এলাকার টিকাকেন্দ্রে তিনবার মেয়েরে নিয়ে গেছি। কেন্দ্র থেকে প্রতিবারই বলেছে, সরকারি টিকা নাকি বন্ধ আছে। পরে মেয়েরে নিয়ে সদর হাসপাতালে যাই। ওই খানে টিকা ছিল, কিন্তু বলছে নির্দিষ্ট টিকাকেন্দ্র থেকেই টিকা নিতে হবে, তারা দিতে পারবে না। এই করতে করতে মেয়ে তো হামে মরেই গেল।’

সোহার নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছেন স্বজনেরা। ছবিটি ১০ এপ্রিল ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে তুলেছেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ–এর আলোকচিত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস।

সোহার নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছেন স্বজনেরা। ছবিটি ১০ এপ্রিল ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে তুলেছেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ–এর আলোকচিত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস।

গতকাল রোববার সোহার মা লিমা আক্তার ও চাচা রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। লিমা জানান, মেয়ের চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে, তিন লাখের বেশি। মেয়ের চাচা দিয়েছেন। জমানো কিছু টাকা ছিল। আর দুটো গরু, নিজের গয়নাও বিক্রি করেছেন। চারটি হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে ছোটাছুটির পরও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না মা। বাড়ি ফিরলেন মেয়ের লাশ নিয়ে।

লিমা আক্তারের আক্ষেপ, ‘মেয়ের একটু জ্বর হলেও শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিতাম। মেয়েটার বড় কোনো অসুখও ছিল না। হামের টিকাটা যদি দিতে পারতাম, মেয়েটা আমার কোলেই থাকত।’

মেয়েরে শুধু হামের টিকাটা দিতে পারি নাই। এলাকার টিকাকেন্দ্রে তিনবার মেয়েরে নিয়ে গেছি। কেন্দ্র থেকে প্রতিবারই বলেছে, সরকারি টিকা নাকি বন্ধ আছে। পরে মেয়েরে নিয়ে সদর হাসপাতালে যাই। ওই খানে টিকা ছিল, কিন্তু বলছে নির্দিষ্ট টিকাকেন্দ্র থেকেই টিকা নিতে হবে, তারা দিতে পারবে না। এই করতে করতে মেয়ে তো হামে মরেই গেল।

সোহার মা লিমা আক্তার

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার তিন মাস আগে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তারপর আর পড়াশোনা করতে পারেননি। পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবন। লিমার আরেক মেয়ের বয়স সাড়ে তিন বছর। জানালেন, এ মেয়ের হামসহ সবগুলো টিকাই সময়মতো দিতে পেরেছেন। তবে চারপাশে হামের মহামারিতে এখন এ মেয়েকে নিয়েও তাঁর চিন্তা হচ্ছে।

সোহার বাবা সাকিব হোসেন গৃহস্থালির কাজ করেন। তাঁর ভাই রাশেদুল ইসলাম ইতালিতে থাকেন, মাস দুয়েক আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন। মা-বাবার পাশাপাশি চাচাও সোহাকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরেছেন। হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রবাসী চাচা।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন