• ঢাকা
  • শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ইরানে হামলা করায় যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করল সুইজারল্যান্ড


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৭ এএম;
ইরানে হামলা করায় যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করল সুইজারল্যান্ড

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করায় ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। একের পর এক দেশ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এমনকি দীর্ঘ পরীক্ষিত মিত্ররাও ইরানের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করতে রাজি হচ্ছে না। এবার ইউরোপের আরেক দেশ সুইজারল্যান্ডও এই তালিকায় যুক্ত হলো।

সুইজারল্যান্ড শুক্রবার (২০ মার্চ) জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানির জন্য কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেবে না। এক্ষেত্রে দেশটি তাদের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার নীতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শুক্রবার বিবৃতিতে দেশটির সরকার বলেছে, ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলোতে যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানি এই সংঘাত চলাকালীন অনুমোদন করা যাবে না।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান যুদ্ধ তিন সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা এল। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম মানবিক সংকট তৈরি করেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে সুইজারল্যান্ড সরকার ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মার্কিন সামরিক ফ্লাইটের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

গত সপ্তাহে দেশটি ইরান-সংক্রান্ত দুটি মার্কিন ফ্লাই ওভারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, যদিও নিরপেক্ষতা আইন মেনেই অন্য তিনটি ফ্লাইটের অনুমতি দেয়। ১৯৯৬ সালে অনুমোদিত একটি সুইস ফেডারেল আইন অনুযায়ী—মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতার নীতির ভিত্তিতে যুদ্ধাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির আমদানি, রপ্তানি ও পরিবহনের জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো নতুন রপ্তানি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়নি। সরকার আরও উল্লেখ করেছে যে, ইসরাইল বা ইরান—কোনো দেশের জন্যই গত কয়েক বছর ধরে যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানির কোনো চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিদ্যমান লাইসেন্সগুলো এখন বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে যাতে দেখা যায় নিরপেক্ষতা আইনের অধীনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা। দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য এবং নির্দিষ্ট সামরিক পণ্য রপ্তানির বিষয়টিও এই বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত যাচাই করবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সুইস অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার বিক্রয়মূল্য ছিল ১১৯ মিলিয়ন ডলার (৯৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ফ্রাঁ)। এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণ মোকাবিলা করা ইউক্রেনেও মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে সুইস-তৈরি সরঞ্জাম পাঠাতে বাধা দিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। 

এছাড়া ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও দেশটি তাদের আকাশসীমায় বিমান চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অস্ত্র রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা পরবর্তীতে তুলে নেওয়া হয়।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন