• ঢাকা
  • বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৩১ পিএম;
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

নেত্রকোনার আটপাড়ায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহ্ নূর রহমানের বিরুদ্ধে। কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় সংযোগ রাস্তাটির নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটির জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ৫ সদস্য কমিটির বিপরীতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিধান অনুযায়ী কাজের পূর্বের ৫০ শতাংশ টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। কিন্তু ওই বরাদ্দে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রকল্প সভাপতি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি সরকারি পরিত্যক্ত খালের ওপর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ১০-১৫ হাজার ঘনফুট পরিমাণ সাদা ভিটি বালু ইতোমধ্যে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার তীব্র বাঁকের কারণে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ ছিল। 

স্থানীয়দের মতে, সংযোগ সড়কটি নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে।

তবে উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় বৈধ কোনো বালুমহাল না থাকলেও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বালু উপজেলার ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। কম খরচে বালু সংগ্রহের জন্য ওই এলাকার নদী থেকে রাতের আঁধারে বালু তুলে প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে রাস্তা নির্মাণ হলেও অন্যদিকে নদীর তীর ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, বৈধভাবে ভৈরব ঘাট থেকে বালু আনতে প্রতি ঘনফুটে ১৯ টাকা খরচ হবে।

কিন্তু প্রশাসন ১০ টাকা ঘনফুট দরে বালু নিতে চায়। পরে তাদের জানিয়েই ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে সরবরাহ করছি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটাখলা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের রাস্তার কাজের দোহাই দিয়ে রাতের বেলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে দুই থেকে তিনটি নৌকায় বালু উত্তোলন করছেন সেলিম মিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাগজে কলমে কমিটি ঠিক রেখে নিজ তত্ত্বাবধানে এই কাজটি করছেন। শুধু এই কাজ নয় উপজেলার একাধিক কাজ কাগজে কলমে কমিটি ঠিক রেখে নিজ ঠিকাধারীতে কাজ সম্পাদন করেন ইউএনও।

প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রেণু মিয়া বলেন, আমাকে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও এই বাজেটে কাজ করা সম্ভব নয় বলে অনাগ্রহ প্রকাশ করি। আমি কাগজে কলমে সভাপতি থাকলেও তারা (প্রশাসন) নিজ উদ্যোগে কাজটি করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল মমিন বলেন, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ৫০ শতাংশ টাকা ছাড় করা হয়েছে। কাজ সমাপ্ত হলে পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হবে।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ নূর রহমানের কার্যালয়ে একাধিকবার গেলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন