আমতলীতে পুলিশ স্টল দখলমুক্ত করার এক ঘণ্টা পর ফের দখলের অভিযোগ শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে
হাফিজ খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলা মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার স্টল দখল মুক্ত করলেন পুলিশ কিন্তু তারা যাওয়ার এক ঘন্টা পরে শ্রমিকদল নেতা মোঃ শাহজাহান সরদার আবারো সেই স্টল দখল করেছেন। দ্রুত শ্রমিকদল নেতা শাহজাহান সরদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। ঘটনা ঘটেছে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে। জানাগেছে, ২০১০ সালে আমতলী উপজেলার মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার জমিতে মানিকঝুড়ি স্ট্যান্ডে সাতটি স্টল ঘর নির্মাণ করেন। ওই স্টলগুলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভাড়া দিয়ে আসছেন। ওই স্টলগুলোর মধ্যে মাদ্রাসা ভবনের সামনে একটি স্টল গত পয়েলা আগষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদারের কাছে ভাড়া দেয়।
তিনি ওই স্টলে পশু ও মাছের খাদ্য বিক্রি করে আসছেন। গত বুধবার রাতে আমতলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদারের নির্দেশে উপজেলা শ্রমিকদল সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ শাহজাহান সরদার জোরপুর্বক ঘর দখল করতে স্টলে তালা দেয়। এতে বিপাকে পরেছে ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদার। তার অন্তত পাঁচ লাখ টাকার পশু ও মাছের খাদ্য আটকা পরেছে। বন্ধ হয়ে গেছে তার ব্যবসা কার্যক্রম। এ ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবু তাহের শুক্রবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শনিবার এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর নরেচরে বসে পুলিশ প্রশাসন।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টলের তালা খুলে দখলমুক্ত করেছেন। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার এক ঘন্টা পরে উপজেলা শ্রমিকদল সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহান সরদার স্টল দখল করেছেন এমন অভিযোগ মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবু তাহেরের। শ্রমিকদল নেতার এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে হতবাগ স্থানীয়রা। তারা শ্রমিকদল নেতা ও তাকে ইন্দনদাতা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কিছু বির্তকিত নেতারা নগ্ন খেলায় মেতেছেন এটা অন্যায়। যারা এমন কর্মকান্ড করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দাবী জানান তারা। আমতলী উপজেলা শ্রমিকদল সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ শাহজাহান সরদার স্টল দখলের কথা অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকির ঘটনাস্থলে এসেছিল তিনি মিমাংশা করে দেবেন বিধায় মালামাল ঘরে রাখা হয়েছে। যাতে মালামাল নষ্ট না হয়। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবু তাহের বলেন,পুলিশ মাদ্রাসার স্টল দখলমুক্ত করে যাওয়ার একঘন্টা পরেই শ্রমিকদল নেতা শাহজাহান সরদার স্টল দখল করে তার মালামাল রেখে দিয়েছেন।
আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু শুনেননি। তিনি আরো বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরকে অনুরোধ করেছিলাম শ্রমিকদল নেতা শাহজাহান সরদারের মালামাল স্টলে না রেখে মাদ্রাসায় রাখতে কিন্তু তিনিও তা শুনেননি। আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, পুলিশ পাঠিয়ে মাদ্রাসা স্টল দখল মুক্ত করা হয়েছে। এরপর কি হয়েছে তা আমার জানা নেই?
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: