সাকের হত্যাকান্ডে উত্তাল মাগুরা; বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনকে (৪০) মাথায় গুলি করে হত্যার ঘটনায় বর্তমানে উত্তাল রয়েছে মাগুরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাগুরা শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২১ অক্টোবর (বুধবার) ভোর আনুমানিক ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের কাউন্টারের ভেতরে দায়িত্ব পালনকালে সাকের হোসেনকে গুলি করা হয়। তিনি ওই কাউন্টারের মাস্টার (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সাকেরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজি রিপোর্ট দেখে তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং প্রাথমিকভাবে স্ট্রোক বা অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলে ইঙ্গিত দেন। আশ্চর্যজনকভাবে ওই চিকিৎসক সাকেরের মাথার পেছনে থাকা গুলির ক্ষতটি খেয়াল করেননি বা পরীক্ষা করেননি।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর দাফনের উদ্দেশ্যে গোসল করানোর সময় পরিবারের সদস্যরা সাকেরের মাথার পেছনে গভীর ছিদ্র দেখতে পান। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দিলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং খুলির ভেতর থেকে একটি রিভলবারের বুলেট উদ্ধার করা হয়।
জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় নিহতের মাথার পেছনের স্পষ্ট গুলির ক্ষত দেখতে না পাওয়া ও গাফিলতির কারণে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত (অব্যাহতি) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, ছুটির পর এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
সাকেরের স্ত্রী শারমিন নাহার (আক্তার) বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর গোয়েন্দা পুলিশ (DB) ও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রনি শিকদার (৩৮) এবং শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও রেকর্ড (যেখানে দুটি গুলির শব্দ পাওয়া গেছে) এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য মোটিভ খতিয়ে দেখছে পুলিশ:
* দলীয় বা রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল
* মাগুরা শহরের আতর আলী সড়কের একটি মূল্যবান বাড়ির দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ
* সোনা চোরাচালান, জমি দখল বা ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা।
হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পার হয়ে গেলেও মূল
ধরা না পড়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে মাগুরার রাজপথ এখনো বিক্ষোভ ও স্লোগানে উত্তপ্ত।
মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনকে (শাকের হোসেন) গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুর রহমান হাসুসহ যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: