• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৫৯ পিএম;
ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ

ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ: হাম প্রাদুর্ভাব ঘিরে দায়-জবাবদিহি প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

নজরুল ইসলাম আলীম:-

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-সহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উদ্দেশে এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশে হঠাৎ করে হাম রোগের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পেছনে টিকাকরণ ব্যবস্থাপনায় নীতিগত পরিবর্তন ও অব্যবস্থাপনা ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে।নোটিশটি ক্যাবিনেট বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।নোটিশে আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূর জাহান বেগম, এম সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যরা।প্রাদুর্ভাব ও নীতিগত প্রশ্ন‌ স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে—যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত কারণ, টিকাদান কর্মসূচির কাঠামোগত পরিবর্তন কিংবা বাস্তবায়ন ঘাটতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কিনা—তা এখনও স্পষ্ট নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং টিকাদানের হার সামান্য কমে গেলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আইনগত ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট আইনজ্ঞদের মতে, লিগ্যাল নোটিশ একটি প্রাথমিক আইনি পদক্ষেপ, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ দেয়। তবে সরাসরি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন হয়।এই প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ একদিকে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরে, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।রাজনৈতিক তাৎপর্য
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই নোটিশ কেবল একটি স্বাস্থ্যসংকট নয়, বরং শাসনব্যবস্থা, নীতি নির্ধারণ এবং দায়বদ্ধতার বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে, এই নোটিশ তা আরও জোরালোভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
সামনে কী?এখন দৃষ্টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিক্রিয়ার দিকে। তারা তদন্ত কমিটি গঠন বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা, সেটিই নির্ধারণ করবে বিষয়টির পরবর্তী গতি।একই সঙ্গে, এই ঘটনায় স্বাস্থ্যখাতের নীতিমালা, টিকাদান কর্মসূচি এবং জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন