মাদক ব্যবসার অধিপতি হয়ে উঠেছেন পুলিশ হত্যার আসামি মাসুদ গাজী
গুলশান-বনানীতে মাদক সাম্রাজ্যের নতুন ‘ডন’ মাসুদ গাজী পুলিশ খুনের মামলা মাথায় নিয়েও বহাল তবিয়তে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেছেন মাসুদ গাজী।
এলাকা সূত্র বলছে অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর মাদক কারবারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এখন এক নয়া ‘গডফাদার’-এর হাতে।তিনি আর কেউ নন চিহ্নিত মাদক কারবারি মাসুদ গাজী। একসময় সহোদর বড় ভাইয়ের মাদক সিন্ডিকেটের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করলেও, বড় ভাই অসংখ্য মামলায় কোণঠাসা হয়ে আড়ালে চলে যাওয়ার পর পুরো সাম্রাজ্যের হাল ধরেছেন এই মাসুদ।বর্তমানে তার ইশারাতেই ঢাকার অভিজাত এলাকায় নামছে মাদকের বড় বড় চালান।
১৩ মামলার আসামি,পুলিশ হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা মাসুদ গাজীর বিরুদ্ধে গুলশান ও বনানী থানাসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার অপরাধের খতিয়ান কেবল মাদক বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কয়েক বছর আগে নিজের লাইসেন্সকৃত একটি গাড়িতে মাদক পরিবহনের সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য গাড়িটি থামানোর নির্দেশ দিলে, মাসুদ ও তার সহযোগীরা গাড়িটি সরাসরি ওই পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের ওপর তুলে দেয়। ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে প্রাণ হারান সেই পুলিশ সদস্য। এই চাঞ্চল্যকর পুলিশ হত্যা মামলাটি (মামলা নং ১১৪/২২) বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আইনের তোয়াক্কা না করে বীরদর্পণে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সমাজের চোখ এড়াতে মাসুদ গাজী নিজেকে বর্তমানে একজন ‘রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এটি কেবলই একটি মুখোশ। ভেতরে ভেতরে তিনি তার ভাগ্নেকে মাদক ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি বানিয়ে পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।
মাদকের কালো টাকায় মাসুদের বড় ভাই শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। পিছিয়ে নেই মাসুদ নিজেও। মাত্র কয়েক বছরে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মাদকের এই অবৈধ উপার্জনেই রাজধানীর ভাটারা এলাকায় কিনেছেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, নিজের সিন্ডিকেটকে নিরাপদ রাখতে মাসুদ গাজী গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তার এই ব্যবসার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছে তার স্ত্রীর ইমন ভাই এবং কড়াইল বস্তির কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মনির।
মাদকের এই নিরাপদ রুট বজায় রাখতে নেপথ্য শক্তি ও সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ‘বাঞ্ছারাম’ নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী।অভিজাত এলাকার অলিগলিতে অসংখ্য বেতনভুক্ত মাদক বিক্রেতা (লাইনম্যান) নিয়োগ করে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মাসুদ। এর ফলে গুলশান-বনানী ও আশেপাশের এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং সার্বিক পরিবেশ দিন দিন ভারী হয়ে উঠছে।
এমন একজন চিহ্নিত অপরাধী ও পুলিশ হত্যা মামলার আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে কোটি কোটি টাকার মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন,তা নিয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: