কয়লা ও পাথর আমদানির আড়ালে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের ৩ টি শুল্ক স্টেশন বরছড়া ও চাঁরাগাঁও বাগলি দিয়ে কয়লা ও পাথর আমদানির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির মচ্ছব চলছে। শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত কয়লা ও পাথর আমদানি এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত করছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি গাড়িতে সর্বোচ্চ ১২ মেট্রিক টন কয়লা আমদানির অনুমতি থাকলেও, বাস্তবে প্রতিটিতে ২২-২৪ মেট্রিক টন পর্যন্ত কয়লা পরিবহণ হচ্ছে।
এতে প্রতিটি গাড়িতে অতিরিক্ত ১০-১২ টন কয়লার ও পাথর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত হতে দেশে প্রবেশ করছে। বিপরীতে প্রতিটি কয়লার গাড়ি থেকে গড়ে ১২ হাজার টাকা পাথরের গাড়ি থেকে এবং ২০০০ টাকা করে অবৈধ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ১০০-১২০টি কয়লা, এবং ৫০০-৬০০ টি পাথর বুজাই গাড়ি এই ৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রবেশ করছে। হিসাব অনুযায়ী, সরকার প্রতি দিন প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। বিনিময়ে দৈনিক ২০-২২ লাখ টাকা অবৈধ ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকির নাটেরগুরু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা বিটন চাকমা,মংসচিং মারমা,মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।
সরেজমিনে জানাগেছে, শুল্ক স্টেশনের কর্মরত সিপাই তারিফুল ইসলাম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছ থেকে কয়লার গাড়ি প্রতি ১২ হাজার টাকা এবং পাথরের গাড়ি হতে ২০০০ টাকা আদায় করেন।
পরে তিনি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিচ্ছেন। গোপন সূত্রে জানাগেছে, শুল্ক ফাঁকির বিপরীতে আদায়করা ঘুষের টাকা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে। সংগৃহীত টাকার মধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তা ৩০%সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ৪০ % এবং বাকি ৩০ % টাকা সিপাইদের দেওয়া হয়। সবারই আলাদা ব্যাংক হিসাবে ঘুষের টাকা জমা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকার যেখানে অর্থ সঙ্কটে হিমসিম সেখানে রাজস্ব ফাঁকির মচ্ছব সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় পুরো কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে। যা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এবিষয়ে বরছড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বিটন চাকমার মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে বার্তা পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: