• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. আর্ন্তজাতিক

ইরানে এ পর্যন্ত নিহত ৫০০-এরও বেশি: মানবাধিকার সংস্থা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:২৭ এএম
ইরানে এ পর্যন্ত নিহত ৫০০-এরও বেশি: মানবাধিকার সংস্থা

ইরানে গত ১৫ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৩৮ জন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬ শতাধিক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ও বন্দির প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ গত তিন দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক কল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় বিক্ষোভে সহিংসতা ও হতাহত বিষয়ক তথ্য খুব কম জানা যাচ্ছে। গতকাল রোববার ইরানের কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে নিহত ও আহতদের ভিড়ে। রাজধানী তেহরানের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন, তাদের মর্গে লাশ রাখার আর জায়গা না থাকায় নতুন যেসব মরদেহ আসছে— সেসব ফেরত পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইরানের সরকার এখন পর্যন্ত আহত ও নিহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস একটি মুক্তভাবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাইয়ে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ইন্টারনেট আন্তর্জাতিক ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে।

এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার নিষ্ঠুর পন্থায় বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগ নিলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানো হবে— এমন হুমকি কয়েকবার দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল রোববার দেশের অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।

সূত্র : এএফপি

দৈনিক পুনরুত্থান / আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন