• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ১৭ আসামির কার কী ভূমিকা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:২১ পিএম
ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ১৭ আসামির কার কী ভূমিকা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামিদের যার যেই ভূমিকা ছিল তা তুলে ধরেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭) ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন (২৬), তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১), জেসমিন আক্তার (৪২), হুমায়ুন কবির (৭০), হাসি বেগম (৬০), সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), মারিয়া আক্তার লিমা (২১), কবির (৩৩), নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), সিবিয়ন দিও (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও ফয়সাল (২৫)।

ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল ও প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে হাদি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজনসহ ছয়জনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
 
তিনি আরো জানান, ফয়সাল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের পরিকল্পনায় ন্যক্কারজনক এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

পুলিশ জানায়, হাদি হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর। ঘটনার দিন তারা হাদিকে অনুসরণ করেন। মোটরসাইকেলে করে পেছন থেকে এসে অটোরিকশায় বসা হাদিকে গুলি করা হয়।

আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন এবং মোটরসাইকেলের পেছনের আসনে বসে থাকা ফয়সাল গুলি করেন।
 
ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে হাদি হত্যায় পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর ‘সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে’। বাপ্পী শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরের পলায়নে ‘সার্বিক সহায়তাকারী’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এই তিন আসামি ছাড়া অন্যদের মধ্যে ফয়সালের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠজনসহ মোট আটজন ফয়সালকে পালাতে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। তারা হলেন- ফয়সালের দুলাভাই মুক্তি মাহমুদ, বোন জেসমিন, বাবা হুমায়ুন, মা হাসি, স্ত্রী সাহেদা, শ্যালক ওয়াহিদ, বান্ধবী মারিয়া এবং কবির।

 এ ছাড়া ফয়সালকে পালাতে ভাড়া গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন নুরুজ্জামান। পুলিশের অভিযোগ, তাকে সীমান্ত দিয়ে পালাতে ফিলিপ, সিবিয়ন, সঞ্জয় ও আমিনুল সহায়তা করেছেন। অভিযোগপত্রভুক্ত ১৭ নম্বর আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সম্পূরক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন