• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

গ্রামে গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ‘নিষিদ্ধ’ করে মসজিদ কমিটির নোটিশ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫২ পিএম;
গ্রামে গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ‘নিষিদ্ধ’ করে মসজিদ কমিটির নোটিশ

মসজিদ কমিটির ‘গান-বাজনা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ সম্পর্কিত একটি নোটিশ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের তেররশিয়া পোড়াগ্রাম জামে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

৩৪ জন মসজিদ কমিটি সদস্য ও গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত নোটিশটি কিছুদিন পূর্বের। তবে সম্প্রতি ওই নোটিশের বিষয়টি সামনে আসে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোটিশটি ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। কমিটি বিষয়টি ‘ঠিক’ হয়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না মর্মেও তারা অঙ্গীকার করে।

পুলিশ নোটিশসংবলিত ব্যানার পোস্টার জব্দ করেছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “এতদ্বারা পোড়া গ্রামবাসীর পক্ষ হতে জানানো যাচ্ছে যে আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে শিরক, বিদআত, গান-বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে আজ থেকে আমাদের গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চ শব্দে বাদ্যযন্ত্র বা গান-বাজনা সম্পূর্ণরূপে হারাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এর পরও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে তাদের বিরুদ্ধে ‘আইনগত’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নোটিশটিতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই এবং কোন আইনে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া নেই।

সংশ্লিষ্ট ইউপি ওয়ার্ড সদস্য জিয়াউল হক বলেন, ‘সপ্তাহখানেক পূর্বে ফেসবুকে জানতে পারি যে এলাকায় গান-বাজনা হবে না, বিয়েবাড়িতে গান-বাজনা হবে না, ধর্মবিরোধী কোনো কাজ গ্রামে চলবে না। এ ছাড়া পোড়া গ্রামের মহানন্দা নতুন সেতু মোড়ে এসংক্রান্ত একটি নোটিশ টাঙানো দেখেছি। ওই নোটিশটি প্রায় ১০ দিন পূর্বে টাঙানো হয়েছে বলে শুনলাম। ঘটনাটি শুরুর সঙ্গে কারা কারা জড়িত, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিষয়গুলো খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, ৩ দিন পূর্বে ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ওই মসজিদে গিয়ে ইমামসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নিয়েছে।

কমিটি ভুল স্বীকার করেছে। এসংক্রান্ত পোস্টার-ব্যান্যার, কাগজপত্র জব্দ হয়েছে। কমিটিকে কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। এলাকার দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ কমিটি এ ধরনের কাজ করতে পারে না। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান,সদস্য, গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয়দের প্রথমে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে ওই মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

ইউএনও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ডেকে আনা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মসজিদের ইমাম, মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসীর মধ্যে ১০ জনের মতো ইউএনও অফিসে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা অঙ্গীকার করেন, রবিবার (৮ মার্চ) থেকে সোমবার (৯ মার্চ) তারা এসংক্রান্ত রেজল্যুশন করে জমা দেবেন।

ইউএনও বলেন, অতি আবেগে তারা এমনটি ঘটিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে তারা (কমিটি) নোটিশ দেওয়ার পর গান-বাজনার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন