• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ছাত্রীকে বিয়ে করায় ইমাম লাঞ্ছনার শিকার, ভিডিও ভাইরাল


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০১ পিএম
ছাত্রীকে বিয়ে করায় ইমাম লাঞ্ছনার শিকার, ভিডিও ভাইরাল

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করায় মসজিদের ইমামকে লাঞ্ছিত করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ইমামকে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইমামকে ঘিরে মিছিল করছেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা আব্দুল করিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মসজিদ ও মাদরাসার ইমাম। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহমুদ হকের ছেলে। ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, একই এলাকার মসজিদের ইমাম তাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন।

অভিযোগ করে মাওলানা আব্দুল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে কৌশলে তাকে এলাকায় ডেকে আনা হয়। পরে মেয়েটিকে তার কাছ থেকে আলাদা করে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় সুমন, শাহাদাত, ছাইফুলসহ কয়েকজন জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন তাকে সারাদিন চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান রানার বাড়িতে আটকে রাখা হয়। রাতে এক তরফা সালিশ বসিয়ে শরিয়াহ মোতাবেক সম্পন্ন বিয়েটি বাতিল করে তালাক দেওয়া হয় এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।

মাওলানা করিম দাবি করেন, মেয়েটির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং উভয়ের সম্মতিতে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়েছে। আমার কোনো অপরাধ থাকলে আইনি শাস্তি মেনে নেব, কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতনের বিচার চাই। চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান বলেন, মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ ও অন্যান্য বিষয় অভিভাবকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে এখনো নাবালিকা। তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

অন্যদিকে একজন ইমামকে এভাবে লাঞ্ছিত করে বিক্ষোভ মিছিল করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সচেতন মহল। তারা বলেন, ভুল যে কেউ করতে পারে, এজন্য রাষ্ট্রে আদালত ও আইন রয়েছে। কিন্তু আলেম হওয়ার কারণে কাউকে এভাবে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মেয়ের পরিবার ও মেয়ের নিজস্ব ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও কেন শাস্তি বা লাঞ্ছনা শুধু একজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। অবিচার যখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়, তখন আলেম বা সাধারণ মানুষ নির্বিশেষে সবারই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। আমি এই একপাক্ষিক ও অনৈতিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি জেনেছি এবং ভিডিওটা দেখেছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন