জঙ্গি অভিযানের নামে ৭ জনকে হত্যা, সাবেক ডিএমপি কমিশনার কারাগারে
গাজীপুরের জয়দেবপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে ২০১৬ সালে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল রবিবার আছাদুজ্জামান মিয়াকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। আছাদুজ্জামান মিয়াকে ট্রাইব্যুনালের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছিল। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে গতকাল তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল গাজীপুর পুলিশের সহায়তায় জয়দেবপুরের পাতারটেক এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি ঘিরে রাখে। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াট সেখানে অভিযান শুরু করে। চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন স্পেট-এইট’।
সেসময় পুলিশ জানিয়েছিল, আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে জঙ্গিরা বাড়ির ভেতর থেকে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে সাত জঙ্গির সবাই নিহত হন। অভিযানের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিহতদের ছবি প্রকাশ করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে আহ্বান জানিয়েছিল। পরে নিহত সাতজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।
এই তিনজন হলেন—সিরাজগঞ্জের ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ ওরফে প্রভাত, সুনামগঞ্জের সাইফুর রহমান বাবুল ও ঢাকার বংশালের ইব্রাহীম বিন আজিম। ফরিদুল ইসলাম আকাশকে সে সময় ‘নব্য জেএমবি’র ঢাকা বিভাগের অপারেশন কমান্ডার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
চব্বিশের গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৯ বছর আগের অভিযানকে ‘সাজানো নাটক’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ দেন অভযানে নিহত ইব্রাহীম বিন আজিমের বাবা আজিম উদ্দীন। তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থা ঘটনার তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলার পাঁচ আসামিকে ধরতেই প্রসিকিউশনের আবেদনে গত বছর ১৮ আগস্ট পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের দাবি, ‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা জঙ্গি দমন অভিযান ছিল না। ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজন ইসলামি ভাবধারার যুবক ও মাদরাসার ছাত্রকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর গাজীপুরের জয়দেবপুরের ওই বাড়িতে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল। পরে জঙ্গি অভিযানের নামে তাদের হত্যা করা হয়।’
এ মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাজেদ পাটোয়ারীসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া একজন। এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- জঙ্গি অভিযান
- হত্যা
- সাবেক ডিএমপি
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: