• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

দুর্নীতিবাজ অফিস সহকারীদের তদবিরে পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালকের বদলি নিয়ে নানান গুঞ্জন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২৫ পিএম
দুর্নীতিবাজ অফিস সহকারীদের তদবিরে পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালকের বদলি নিয়ে নানান গুঞ্জন

"একেই বলে দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতা",  লালমনিরহাটে পরিবার পরিকল্পনার অফিস সহকারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজদের তদবিরে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণতা উপ-পরিচালক মোঃ শাহাজালালের বদলি নিয়ে নানান গুঞ্জন সৃষ্ঠি হয়েছে।

‎জানা গেছে, ২০২৫ সালের (১৭ মার্চ) মহামান্য রাষ্টপতির আদেশক্রমে নারায়ণগঞ্জ থেকে লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে মো. শাহজালালকে যোগদান করেন।
‎যার নম্বর: ৫৯.০০.০০০০.১১০.১৯.০০৪.২১-১৮৬। উপপরিচালক যোগদানের পর লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সদর উপজেলা, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা সহ ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্লিনিকগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করেন।

‎ওই সময় দেখতে পান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সরবরাহকৃত শয্যা আজোবদি কেন্দ্রে ব্যবহারিত হয়ে আসছে। অথচ প্রতি অর্থবছরে সরকারি ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দে অর্থে কেনা মালামাল, স্টক, সরবরাহ ও বিতরণ রেজিস্টার, ঔষধ, আসবাবপত্র, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, এ্যাম্বুলেন্স, কম্পিউটার, মোটরযান মেরামতের খরচের কোন তথ্যের হদিস নেই।

‎পরর্বতীতে উপ-পরিচালক মোঃ শাহজালাল স্বাক্ষরিত এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. নিশাত উন নাহার ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মনোয়ারা বেগম শুধুমাত্র একবছর ভূয়া বিল ভাউচারে ২৫ লক্ষ ৯ হাজার ৩ শত ৬৫ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পান। যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতিবেদনটি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং-জেপপ/লাল/শা-প্রশা/২৫/১৮৭, তাং ২২/৬/২৫ইং। সেই সাথে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা সহ আদিতমারী, কালিগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা মিলে ১৪/১৫ জন কেউ কেউ ২০০৮ সাল থেকে আজোবদি একই কর্মস্থলে বহাল থাকা ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির জড়িয়ে পড়েন।

‎প্রতি অর্থবছরে বরাদ্দকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা হরিলুট ও সরকারি অর্থে কেনা মালামালের কোন হদিস নেই। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ উপজেলা অফিসগুলোর অবস্থা অমানবিক। যার প্রধান কারণ হচ্ছে, অন্তে অন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতি। কারণ, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সহ উপজেলা অফিসগুলোতে ১৭/১৮ বছর ধরে কোন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় হয়নি।

‎এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতিবেদনটি রংপুর বিভাগীয় পরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামালের দপ্তরে প্রেরণ করেন উপ-পরিচালক মোঃ শাহজালাল। যার অনুলিপি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর প্রেরণ করেন। সেই সাথে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার আবেদন করেন।

‎ এছাড়াও লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মো. শাহজালাল পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে, স্বাস্থ্যসেবা খাতকে ঢেলে সাজাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেন। যার কঠোরতায় প্রতিটি উপজেলাতে পেনশন, জিপিএফ, চিত্তবিনোদন সহ সকল প্রকার ছুটিতে লেনদেন বন্ধ করে দেন। উপ-পরিচালক মোঃ শাহজালাল এ জেলায় দায়িত্বে থাকলে আর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা হলে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতির ফাঁস হওয়ার আগে নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে একটি বেনামি অভিযোগ তৈরি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময় রংপুর বিভাগীয় পরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামালের সহযোগিতায় উপপরিচালক মো. শাহজালালকে বদলি করান বলে একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছেন। যার নং-৫৯.১১.০০০০.১৫২. ৩৪. ৯১০.৪০১০, তাং ০৩.১১.২৫।

‎খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মোঃ শাহজালাল একজন আদর্শবান কর্মকর্তা। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহকারী সহ উপজেলা পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরায় উপ-পরিচালক মো. শাহজালালের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তাকে বদলি করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। অবশেষে তাকে বদলি করান। মো. শাহজালাল একজন সৎ পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক তার মেধা ও নৈতিকতার জেলা পরিবার পরিকল্পনার ইতিবাচক পরিবর্তনের আগেই দুর্নীতিবাজদের পেশি শক্তির কাছে হেরে গেল বলে জানা গেছে।

‎এ বিষয়ে তৎকালীন লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মো. শাহজালাল বলেন, আমাকে লালমনিরহাট জেলায় পদায়ন বা বদলি অর্ডারে স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেন। যোগদানের পর বছরের পর বছর একই অফিসে চাকরিতে বহাল থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অনেকটাই বেপরোয়া’ হয়ে উঠেন। এসব দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি ধরায় আমাকে লালমনিরহাট থেকে হবিগঞ্জ বদলি অর্ডারে স্বাক্ষর করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর উপ-পরিচালক (পার্সনেল) এরশাদ আহমেদ নোমানী। উপ-পরিচালক পদের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে অধিদপ্তর বদলি করতে পারে না। আমি এর বিরুদ্ধে আপিল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটা দুর্নীতিবাজদের রক্ষকরা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়নি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন