বগুড়ায় ঈদ আনন্দের পরিবর্তে শোকের মাতম, ট্রিপল মার্ডার, দুর্ঘটনায় নিহত ৪
বগুড়ায় ঈদের আনন্দ উৎসবের দিনগুলোতে বিএনপি নেতাসহ ট্রিপল মার্ডার, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্বজন হারানো পরিবারগুলোতে আনন্দের পরিবর্তে চলছে শোকের মাতম। বগুড়ার শহরতলীতে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে বিএনপি কর্মীসহ আদমদীঘি উপজেলায় দুই গৃহবধূ খুন হয়েছেন। নন্দীগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন, গাবতলীতে পৃথক ঘটনায় দুইজন ও সান্তাহারে পানিতে ডুবে মারা গেছেন একজন।
আজ মঙ্গলবার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপি কর্মী আরিফুল ইসলাম মুন্না (৪৭)। সোমবার রাতে বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় খন্দকারপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে ফেরার পথে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাহত হন বিএনপি কর্মী আরিফুল ইসলাম মুন্না। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। তবে নিহতের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের দাবি, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছেলের জন্য রুটি কিনতে যান মুন্না। ফেরার পথে কয়েকজন ব্যক্তি হামলা করে। সে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে বড় ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। সেখান থেকেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টাকা পাওনা নিয়ে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে মুন্নাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের ভাই মাহিদুল ইসলাম।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আনাম জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সায়েম ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, সোমবার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার শান্তিনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত রিমু বেগম (১৯) সান্তাহার সাহেব পাড়ার আইয়ুব আলীর কন্যা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক আছেন অভিযুক্ত স্বামী মজিবর রহমান সাদ্দাম। নিহতের মা রেখা বেগম বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত সাদ্দাম চারমাস আগে রিমু বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সান্তাহার মায়াবিড়ি কারখানার পাশে শান্তিনগরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ঘটনার দিন সোমবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া হয়। রিমুর মা ঘরের কাছে যেতেই সাদ্দাম দরাজ বন্ধ করে পালিয়ে যায়। ঘরের মধ্যে পড়েছিল গৃহবধূ রিমুর নিথর দেহ। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার ও পাশে থাকা একটি রশি জব্দ করে। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, ঈদে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত শুক্রবার আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। নিহত উম্মে হাবিবা উর্মি (৩৬) রানীনগর উপজেলার ভেবড়া এলাকার বাসিন্দা। একটি মামলা দায়ের করার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি ও তাদের লোকজন হামলা চালায় বলে জানিয়েছে নিহতের আত্মীয়রা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের পর বসতবাড়িতে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, আদমদীঘির উজ্জলতা গ্রামে বড় বোন উম্মে হাফিজার বাড়িতে ঈদ উদযাপনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিল ছোট বোন উম্মে হাবিবা উর্মি৷ হামলার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধাওয়া করে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। গত বছর ২৬ আগস্ট কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়। আদালতে চার্জশীট দাখিলের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহমান।
অন্যদিকে, গত রোববার গাবতলী উপজেলার সাঘাটিয়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাহিনুর ইসলাম (৪৫) ওই গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেন তোজামের ছেলে। একইদিন গাবতলী পৌরসভার সারিয়াকান্দি সড়কের জয়ভোগা চা-বাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। নসিমন ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন গৃহবধূ ফাহিমা খাতুন (২৫)। তিনি গাবতলী উপজেলার তরফ ভাইখা গ্রামের মিল্টনের স্ত্রী। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আট বছর বয়সী কন্যা ফাহমিদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার নন্দীগ্রাম উপজেলার কদমকুড়ি পেংহাজারকি আঞ্চলিক সড়কের ধুন্দার বাজার এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে উৎসব কুমার (১৩) নামের কিশোরের মৃত্যু হয়। সে ধুন্দার মাড়িয়া গ্রামের শ্রী বিকাশ চন্দ্রের ছেলে। গত শুক্রবার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের হামতখালি এলাকার পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত খোকন প্রামানিক (৬২) সান্তাহার বর্শিপুর সরদার পাড়ার মৃত ছামাদ প্রামানিকের ছেলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং তার মৃগী রোগী ছিলেন। ঘাস কাটার পর পুকুরে হাত ধোয়ার সময় পানিতে পড়ে ডুবে গেলে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: