• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

রাণীনগরে গত দুই মাসেও উদঘাটন হয়নি জুয়েলের মৃত্যু রহস্য, উদ্ধার হয়নি ভ্যান,মোবাইল-টাকা!


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১৪ পিএম
রাণীনগরে গত দুই মাসেও উদঘাটন হয়নি জুয়েলের মৃত্যু রহস্য, উদ্ধার হয়নি ভ্যান,মোবাইল-টাকা!

নওগাঁর রাণীনগরে সড়কের পাশ থেকে জুয়েলের (৩২) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া তার কাছে থাকা অটো চার্জার ভ্যান গাড়ি,মোবাইল ফোন এবং খোয়া যাওয়া টাকাও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। জুয়েল রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল লওপুকুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। গত ৬নভেম্বর সকালে রাণীনগর-আবাদপুকুর আঞ্চলিক মহা সড়কের পাশে হরিপুর নামক স্থান থেকে পুলিশ এই মরদেহ উদ্ধার করে। এঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

‎মামলার বাদী জুয়েলের ছোট ভাই রুবেল হোসেন জানান,এদিন ভোরে ভাই জুয়েল হোসেন কাঁচা মাল কেনার জন্য জয়পুর হাটের তিলকপুর বাজারে যাবার জন্য অটো চার্জার ভ্যান গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যান। পরে এদিন সকাল ১০টা নাগাদ জানতে পারেন জুয়েলের মরদেহ সড়কের পাশ্বের হরিপুর নামকস্থানে ধান ক্ষেতে পরে আছে।

থানাপুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাবার পর থানায় গিয়ে তারা জুয়েলের মরদেহ সনাক্ত করে। রুবেল জানান,জুয়েলের কাছে কাঁচা মাল কেনার জন্য ৩হাজার ৭০০টাকা ছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় ভ্যান গাড়ি,একটি মোবাইল ফোন এবং টাকা পায়নি পুলিশ। এঘটনায় তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎রুবেল হোসেন বলেন,ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার রহস্য উদঘাটন কিম্বা ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া উদ্ধার করতে পারেনি ভ্যান গাড়ি,মোবাইল ফোন এবং টাকা। তিনি বলেন,মাঝে মধ্যে পুলিশ শুধু পরিবারের লোকজনদের ডেকে নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ জরিতদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

‎জুয়েলের স্ত্রী সোনালী বিবি জানান,জুয়েল রকমারী পেশায় ছিলেন। কখনো ভ্যান চালাতেন আবার কখনো তরিতরকারী কিম্বা সিজিনারী নানান ফলের ব্যবসা করতেন। কারো সাথে কোন দ্ব›দ্ব ছিলনা। কিন্তু  কিভাবে কি হয়ে গেল আমরাও বুঝতে পারছিনা। ‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল জানান,মরদেহ উদ্ধারের সময় জুয়েলের হাতে আলত করে দড়ি বাঁধা ছিল। শরীরের কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। এছাড়া প্রাথমিকভাবে হত্যার তেমন আলামতও মেলেনি। ফলে মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে অনেকটায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোট এখনো হাতে পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি আরো বলেন,পারিবারিকভাবে কোন ঝামেলা ছিল কিনা বা কারো সাথে কোন বিবাদ ছিল কিনা এসব বিষয় ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত চলছে।

‎রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান,জুয়েলের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশ,র‌্যাব এবং সিআইডির একটি টিম কাজ করছে। ইতি মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। তবে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের সার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে আসা করছি দ্রুতই রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।
‎মো: গোলাম মোরশেদ

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন