লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল, একবছরে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ!
লালমনিরহাট ১০ শয্যা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (মাতৃমঙ্গল) সরকারি বরাদ্দের লক্ষ লক্ষ টাকা আতসাৎতের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে ধ্রুমজাল। একই অফিসে এক বছরে ২৫ লক্ষ ৯ হাজার ৩ শত ৬৫ টাকা ও চার বছরে ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৯০ টাকা আত্মসাৎতের রহস্যজনক রিপোর্ট নিয়ে খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা সৃষ্ঠি হয়েছে।
লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মো. শাহজালাল স্বাক্ষরিত এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. নিশাত উন নাহার ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মনোয়ারা বেগম শুধুমাত্র একবছর ভূয়া বিল ভাউচারে ২৫ লক্ষ ৯ হাজার ৩ শত ৬৫ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পান। যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতিবেদনটি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং-জেপপ/লাল/শা-প্রশা/২৫/১৮৭, তাং ২২/৬/২৫ইং।
সেই সাথে লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনার আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার আবেদন করেন। এরপর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দলের সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) ও দলনেতা প্রদীপ চন্দ্র রায়, সহকারী হিসাব নিরীক্ষা কর্মকর্তা ও সদস্য সফিকুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক ও সদস্য ফজলুল কাদের সহ তিন সদস্যর টিম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার পরিবার পরিকল্পনার অফিসের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অডিট করেন। তারমধ্যে ২০২০-২০২৫ আর্থিক সালের জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের আওতাধীন লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অডিট করেন। যার স্মারক নং-৫৯.১১.০০০০.৬০০.০১.০০১.১৯-৯৪৯, তাং-২৪.০৮.২৫ইং। ওই অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে চার বছরের ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৯০ টাকা তৎকালীন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অঃদাঃ) ডাঃ নিশাত-উন-নাহার-কে আপত্তিকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নির্দেশ দিয়েছে নিরীক্ষা টিম। অভ্যন্তরীণ অডিট টিম পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিরীক্ষা ইউনিট নং-৫৯.১১.০০০০.৬০২.০১.০৭৪.২৩-১১১৭, তাং ০৩.১২.২০২৫ইং।
লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কজন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নাম প্রকাশে অনইচ্ছুকে জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কোন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা হয়নি। যার অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় রিপোর্ট নিয়ে খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে নানান জল্পনা-কল্পনা সৃষ্ঠি হয়েছে। চার বছরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় প্রায় ৭০/৮০ লক্ষ টাকার আপত্তি আসার কথা থাকলেও নাম মাত্র ১৩ লক্ষ টাকার আপত্তির বিষয়টি হাস্যকর। এতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহকারী মনোয়ারা বেগম, আদিতমারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার সহকারী মিজানুর রহমান,কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার সহকারী আকবর আলী, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার সহকারী খবিরুল ইসলাম, লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার সহকারী রীনা বেগম নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দলের সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) ও দলনেতা প্রদীপ চন্দ্র রায়কে মোটা অংকের উৎকোচ প্রদানে মূল ভূমিকা ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার এটিএফপিও কামরুল হাসান।
তাছাড়াও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কিছু কেনাকাটা করে দিয়েছেন। এতে মুল অপরাধীকে বাঁচাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত রংপুর বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামাল। তিনি রংপুরে যোগদান করার পর থেকে লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনার অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থের বিনিময় সহযোগিতা করায় জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তবে নিরপেক্ষ ভাবে নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে নিরীক্ষা কার্যসম্পাদন করলে প্রকৃত তথ্য বেড়িয়ে আসবে বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্র নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দলের সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) ও দলনেতা প্রদীপ চন্দ্র রায়ের মুঠোফোনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এক বছরে ২৫ লক্ষ ৯ হাজার ৩ শত ৬৫ টাকা ও চার বছরে ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৯০ টাকা গরমিলে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কাজে আমরা কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। নিরীক্ষায় যা পেয়েছি, তাই রিপোর্ট দিয়েছি।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: