• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২০ আগষ্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

এলজিইডির ৯৬ পদের নিয়োগে জটিলতা, বিপিএসসিকে লিগ্যাল নোটিশ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:২৩ পিএম;
এলজিইডির ৯৬ পদের নিয়োগে জটিলতা, বিপিএসসিকে লিগ্যাল নোটিশ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ার ৯৬টি সংরক্ষিত পদ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আদালত ও আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে শুধু ডিপ্লোমা ইন কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি এবার সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।

গত ১৩ আগস্ট বিপিএসসি চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর ১৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনামুল হকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশটি বিপিএসসি চেয়ারম্যান, সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

৯৬ পদ নিয়ে যত জটিলতা

প্রার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি ও লিগ্যাল নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, বিপিএসসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং ১১-৫৬/২০১৯-এর আওতায় এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে মোট ৭৬৩টি পদ ছিল। এর মধ্যে একটি রিট মামলার কারণে ৯৬টি পদ সংরক্ষিত রাখা হয়। বাকি ৬৬৭টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় পর সংরক্ষিত ৯৬টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, আদালতের রায়কে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সংরক্ষিত পদগুলোর বিপরীতে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইন কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের মধ্য থেকে ৮৬ জনের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দাবি, একই ধরনের যোগ্যতা থাকা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হলে তা আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

আদালতের রায় নিয়ে প্রার্থীদের আপত্তি

লিগ্যাল নোটিশে হাইকোর্টের ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ এবং আপিল বিভাগের ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এর রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রার্থীদের দাবি, এসব রায়ে সনদ যাচাই-বাছাই করে যোগ্য বিবেচিত হলে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ও ডিপ্লোমা ইন কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং—উভয় বিভাগের ডিগ্রিধারীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, এই নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কেবল একটি বিভাগের প্রার্থীদের নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, তাহলে সেটি আদালতের রায়ের পরিপন্থী হতে পারে এবং আদালত অবমাননার প্রশ্নও উঠতে পারে।

এ ছাড়া আইন ও বিচার বিভাগের ১০ জুন ২০২৬-এর মতামতেও একই অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে বলে লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেছেন প্রার্থীদের আইনজীবী।

৭ দিনের সময়সীমা, না হলে রিটের হুঁশিয়ারি

১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে অ্যাডভোকেট মো. আনামুল হক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রার্থীদের দাবি, ডিপ্লোমা ইন সিভিল ও ডিপ্লোমা ইন কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং—উভয় বিভাগের প্রার্থীদের শিক্ষাগত সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে যোগ্যদের মৌখিক পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। এরপর মেধার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলেও লিগ্যাল নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা

এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের জন্য আবেদনকারী অনেক প্রার্থী দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে সংরক্ষিত ৯৬টি পদে নিয়োগের নতুন উদ্যোগ তাদের মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার করেছে, তেমনি নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মতামত যথাযথভাবে অনুসরণ করে যোগ্য সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে বিপিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন