দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটাভুটিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, এমপিদের উপস্থিত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সব সংসদ সদস্যকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সংসদ ভবনে আয়োজিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ প্রদান করেন। বৈঠকে বিএনপির দলীয় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী, মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য কালের কণ্ঠকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
সংসদীয় সভার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সংসদীয় সহকর্মীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নতুন দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও তার রাজনৈতিক জীবনের ভূয়সী প্রশংসা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভোটপ্রক্রিয়া থেকে ছুটি চেয়েছেন দুই সংসদ সদস্য। তারা হলেন চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এবং অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন থাকা চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা।
এদিন বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরর সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভোটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপর প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল অলি আহমেদ। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন।
সভায় উপস্থিত একজন সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের মহাসচিব আজকে (বুধবার) সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য ভোট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথা সময়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’
অপর এক সংসদ সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেন তিনি। আবেগগণ কণ্ঠে সভায় তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া তার জীবনের বড় পাওয়া। তিনি দেশের ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে চান। দেশের ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি। এই দায়িত্ব যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন মহাসচিব।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভা চলাকালিন পুরোসময়টাই তিনি আবেগপ্রবন ছিলেন বলেও জানান ওই সংসদ সদস্য।
জাতীয় সংসদ ওই সদস্য আরো বলেন, মহাসচিব বক্তব্যে বলেন ‘হয়তো আপনাদের সঙ্গে আর রাজনীতির মাঠে দেখা হবে না। এটা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক হবে।’ এ কথা বলতে গিয়েও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীও বিএনপি মহাসচিবের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন বক্তব্য দেন।
সভায় উপস্থিত কয়েকটি সূত্র জানায়, বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংসদ সদস্যরা কিভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি প্রয়োজনীয় দিক তুলে ধরেন। সব সংসদ সদস্যকে সময়মতো উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
বিকেলে সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। তিনি বলেন, ‘৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেব, ইনশাআল্লাহ। ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে ৫টা পর্যন্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব আছেন, তারা ভোট দেবেন সেটা লাইভ দেখানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘তারপর সব রেকর্ড করা হবে। আবার নির্বাচন শেষ হবার পাঁচ মিনিট আগে আমরা লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করব। এরপর ফলাফল ঘোষণাটিও আমরা লাইভ দেখাব। আপনারা দেখবেন, আগামীকালকে একটা ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষন তৈরি হবে, ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হয়েছিলো। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ( ৯২ ভোট) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: