• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

পটুয়াখালী-৪ এ মন্ত্রী কেন জরুরি: সম্ভাবনা বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৫ পিএম;
পটুয়াখালী-৪ এ মন্ত্রী কেন জরুরি: সম্ভাবনা বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর

কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার আঁতুড়ঘর। পায়রা সমুদ্র বন্দর, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল - সবই আছে। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বহু উন্নয়ন কাজ। তাই এ আসনে একজন কার্যকর ও শক্তিশালী মন্ত্রীর প্রয়োজন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

১. পায়রা বন্দরের ড্রেজিং:
কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পায়রা সমুদ্র বন্দর। কিন্তু বর্তমানে বন্দরের টার্মিনালে নিয়মিতভাবে জাহাজ ভিড়ছে না। এর প্রধান কারণ, বন্দরের চ্যানেলে জরুরি ভিত্তিতে মেইন্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে প্রি-একনেকে আটকে রয়েছে। বর্তমান সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন এবং প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি মন্ত্রী হলে বিষয়টি আরও দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।

২. কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা:
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা শুধু কলাপাড়া নয়, পুরো পটুয়াখালীর পরিচয় বহন করে। প্রতিবছর লাখো পর্যটক এখানে ভিড় জমালেও দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হচ্ছে সৈকতটি। প্রায় ২৫ বছর ধরে ভাঙন চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ অঞ্চলের প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

৩. রাঙ্গাবালীর চরাঞ্চল: 
রাঙ্গাবালী উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত চর, যেগুলো একেকটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রচারণার অভাবে এসব চর এখনও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পায়নি। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব চর দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

৪. গঙ্গামতি-কাউয়ার চর:
কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিদিন বহু পর্যটক সেখানে ভ্রমণে গেলেও নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে কুয়াকাটার পাশাপাশি এ স্থানটিও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে।

৫. অবকাঠামো ও জীবনমান:
কলাপাড়া ও নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালীর অনেক এলাকায় এখনও কাঁচা সড়ক রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়। টেকসই সড়ক নির্মাণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ সরকারি নজরদারি প্রয়োজন, যা একজন মন্ত্রীর মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব।

ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে হামলা-মামলা-কারাভোগ - দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন। দক্ষিণাঞ্চলে দলকে সুসংগঠিত করতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তাই রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর মানুষ তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

দৈনিক পুনরুত্থান / পটুয়াখালী-৪ প্রতিনিধি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন