• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

হকার উচ্ছেদের পর চলাচলে স্বস্তি, মিরপুর-১০ নম্বরে নেই চিরচেনা ভোগান্তি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৪৭ পিএম;
হকার উচ্ছেদের পর চলাচলে স্বস্তি, মিরপুর-১০ নম্বরে নেই চিরচেনা ভোগান্তি

ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের পর বদলে গেছে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকার চিত্র। নেই আগের মতো কোলাহল ও ভোগান্তি। ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন পথচারীরা, মূল সড়কেও স্বাভাবিক গতিতে চলছে যানবাহন। ফুটপাতের সৌন্দর্য বাড়াতে লাগানো হচ্ছে গাছ। তবে নগরবাসীর আশঙ্কা, আবারও দখল হলে ফিরে আসবে আগের সেই ভোগান্তি।

একসময় হোপ মার্কেট এলাকার ফুটপাতের একাংশ ছিল হকারদের দখলে। এই ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গেলে ভিড়ের মধ্যে বারবার ধাক্কা খেতে হতো। অন্য পাশের ফুটপাতও ছিল প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী। হকারদের দখলে হারিয়ে গিয়েছিল পথচারীদের চলাচলের জায়গা।

এছাড়া ফুটপাতজুড়ে দোকান বসিয়ে চলত কোটি টাকার বাণিজ্য। ছিল অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও। তবে উচ্ছেদ অভিযানের পর বদলে গেছে পুরো এলাকার চিত্র। দখলমুক্ত ফুটপাতে এখন স্বস্তিতে হাঁটছেন পথচারীরা।

আগে অবৈধ দোকান ও ব্যবসায়ীদের কারণে যে পথে চলাচল ছিল দুর্ভোগের, সেখানে ফিরেছে স্বাভাবিক পরিবেশ। ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযানের প্রভাব পড়েছে আশপাশের সড়কেও। হকার ও ক্রেতাদের ভিড় কমে যাওয়ায় সড়কে কমেছে জটলা। যানবাহন চলছে তুলনামূলক স্বাভাবিক গতিতে। নেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে হকারদের হাঁকডাকও।

এক পথচারী বলেন, ‘আগে ভিড়ের কারণে নিঃশ্বাস নেয়া যেত না। এখন স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছি। আগে ফুটপাতে চাঁদাবাজির টাকা নানাভাবে বণ্টন হতো। সেই বণ্টন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’

ফুটপাতের দোকান ঘিরে নারী হয়রানির অভিযোগও ছিল। এক নারী পথচারী বলেন, ‘আমরা নারীরা যখন এখান দিয়ে যাতায়াত করতাম, তখন নানা ধরনের ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছি। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে আরও বেশি হয়রানি করা হতো।’

দখলমুক্ত হওয়ায় এ ধরনের ভোগান্তি কমেছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, এই পরিবেশ যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যানজটের কারণে বাসায় ফিরতে দেরি হতো। কখনও দুইটার জায়গায় সাড়ে তিনটা, আবার কখনও চারটা বেজে যেত। এতে পড়াশোনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতো।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘মিরপুর-১০ নম্বরের মতো এক নম্বরসহ যেসব মার্কেটের সামনে মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে আছে, সেসব জায়গায় একই পদ্ধতিতে অভিযান চালানো হবে। উচ্ছেদের পর যাতে আবার দখল না হয়, সে ব্যবস্থাও নেয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা আগে বাস্তবায়িত হয়নি। এখন একে একে সেই কাজগুলো করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

দখলমুক্ত ফুটপাতের সৌন্দর্য বাড়াতে লাগানো হচ্ছে গাছ। নাগরিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি ফুটপাত যাতে আবার দখল না হয়, সে জন্যও নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। তবে এই স্বস্তি কত দিন স্থায়ী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন