বৃদ্ধ মাকে আশ্রয় দেননি, ইউএনওর সামনে ছেলের হুমকি ‘আমার সঙ্গে দিলে আত্মহত্যা করব’
জীবন সায়াহ্নে এসে সন্তানের কাছে একটু মাথা গোঁজার আকুতি হৃদরোগে আক্রান্ত বৃদ্ধা মুন্নি খাতুনের। তবে অসুস্থ জন্মদাত্রী মাকে নিজের ঘরে রেখে ভরণপোষণ দিতে নারাজ ছেলে সাগর হোসেন।
এমনকি প্রশাসনিকভাবে বিষয়টির মিটমাটের চেষ্টা করা হলে ইউএনওর সামনেই অনড় ছেলে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে বসেন—‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব!’
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায়। অভিযুক্ত সাগর হোসেন উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ পদে কর্মরত এবং সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক আগে স্বামী সিরাজুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর মুন্নি খাতুনের একমাত্র আশ্রয় ছিলেন ছেলে সাগর ও বিবাহিত এক কন্যা। তবে সাগরের বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা দেয় কলহ।
একপর্যায়ে মাকে সম্পূর্ণ ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন সাগর এবং বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার নানা কৌশল অবলম্বন করেন।
সুবিচারের আশায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বারবার লিখিত আবেদন করেন বৃদ্ধা মা। তবে গ্রাম পুলিশ পদে কর্মরত থাকায় ছেলের দাপট ও একগুঁয়েমির কারণে কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান মুন্নি খাতুন।
ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যুবদল নেতাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অভিযোগটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, ভুক্তভোগী মা ও অভিযুক্ত ছেলে।
শুনানিকালে ইউএনও সেলিম আহমেদ ছেলে সাগরকে আইনি, মানবিক ও নৈতিকতার দিক বিবেচনা করে বৃদ্ধ মাকে ঘরে রাখার আহ্বান জানান। কিন্তু মাকে সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইউএনওর সামনেই মেজাজ হারিয়ে সাগর বলেন, ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না।
স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।’
ছেলের চরম অবহেলার পরও অশ্রুসজল চোখে অসহায় মা মুন্নি খাতুন বলেন, ‘আমার তো স্বামী নেই, অসুস্থ হার্টের রোগী। এখন ছেলে ছাড়া আমার কে আছে? আমি ছেলের কাছে বাড়তি কোনো টাকা-পয়সা চাই না। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের ঘরে শেষ জীবনটা কাটাতে পারি, ওটাই আমার শান্তি। সন্তানের কাছে একটু আশ্রয় চাওয়া কি মায়ের অপরাধ?’
এ বিষয়ে নাগডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মা-ছেলের দ্বন্দ্ব দূর করতে আমরা স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক করেছি। তবে ছেলে কোনো সিদ্ধান্তেই রাজি হয় না।’
ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য : এলজিআরডিমন্ত্রী
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ জানান, ‘অভিযোগের ওপর শুনানি নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ বৃদ্ধা মা সন্তান ও তার আশ্রয়ের অধিকার চান। আমরা ছেলেকে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার জন্য বুঝিয়েছি এবং কিছুদিন সময় দিয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয়টি জটিল না করে এবং বৃদ্ধা মায়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করে আইনগত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: